অপারেশন ডেভিল হান্ট আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দেশব্যাপী অভিযান চলমান রয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীরা ছাত্রদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান শুরু হয়। কিন্তু কুষ্টিয়া জিয়ারখী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহাজান আলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরপর ৩ বারের সভাপতি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও অদৃশ্য শক্তির কারণে রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। একাধারে নিয়ন্ত্রণ করছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারতী ইউনিয়ন পরিষদ।
গত ২০২২ সালের ২ নভেম্বর দলিয় নৌকা প্রতীকে ভোট করে অদৃশ্য আশীর্বাদে রাতারাতি বনেযান ইউপি চেয়ারম্যান। তাছাড়া উন্নয়নের নামে ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় কোটি কোটি টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে পাঁচজন চৌকিদার নিয়োগে মাথাপিছু ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এতে করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাজাহান আলী। জিয়ারতী এলাকায় ডুপ্লেক্স বাড়ি ও হাউসিং মাঠে জায়গা কিনে গড়ে তুলেছেন দুইতলা বিশিষ্ট আধুনিক ডিজাইনের বাড়ি এবং রয়েছে বিলাস বহুল গাড়ীসহ বিপুল ফসলি সম্পত্তি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে দোড়ঝাপ শুরু করেছেন একটি চক্র।
স্থানীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের বাজেট আসলেও পরিপূর্ণভাবে কাজ হয়নি বলে এমন অভিযোগ রয়েছে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জিয়ারখী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাজাহান আলির কাছে একটি তথ্য আইনে আবেদন করলে আইন অনুযায়ী ২১ দিন পার হলেও তথ্য দিতে পুরোপুরি অস্বীকার করেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী। ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যরা গোপনে অভিযোগ জানান, অভিযোগে উল্লেখ করেন কিছু কিছু মেম্বারকে পিআইসি করিয়ে তাদেরকে দিয়ে চেকে সই করিয়ে অর্থ উত্তোলন করেন এবং ইউপি সদস্যরা কিসের চেক জিজ্ঞাসা করলেও তাদেরকে ভয় ভীতি দিয়ে চেক সই করান।
উপজেলা পরিষদ থেকে জানা গেছে, বালিয়াপাড়াপশু হাটের নির্ধারিত ৪১ শতাংশ ছাড়াও অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ অর্থ পায় ওই ইউনিয়ন পরিষদ। এই অর্থ দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। আর ৪১ শতাংশ টাকা দিয়ে নীতিমালা অনুযায়ী খরচ করতে পারেন পরিষদের চেয়ারম্যান। হাট বাজারের প্রাপ্ত অর্থের চেক চেয়ারম্যানের নামে ইস্যু করা হয়। প্রাপ্ত চেক তাদের নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা তোলার কথা। রূপালী ব্যাংক স্বস্তিপুর-ভাদালীয়া শাখায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব খোলা হয়েছে। তবে এই অর্থ এখন আর পায়না বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান শাজাহান আলী।
২০০৩ সালে সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোঃ ইউসুব আলী। তিনি ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করলে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান শাজাহান আলী। তিনি দায়িত্ব পালন করেন প্রায় তিন বছর। এ সময়ের মধ্যে বালিয়াপাড়া পশুহাট থেকে যে অর্থ পেয়েছেন তার মোটা অংশ ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, পশু হাট থেকে আসা টাকা কোথায় কিভাবে খরচ হয়েছে তা তারা জানে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাজাহান আলী, সচিব মহিউদ্দিন শেখ ও তার অনুগত একজন সদস্য, এক কর্মকর্তা ভাগ বরে নিয়েছে। যে কারণেই কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান আলী বলেন, কাজ করতে গেলে কিছু ভুল ত্রুটি হতে পারে। আমরা সাংবাদিক নিয়ে চলাফেরা করি অফিসে আসেন বসে ঠিক করে নি। জিয়ারখি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আলীর কাছে তিন বছরের সরকারি প্রকল্পের ও উন্নয়নমূলক কাজের আয়-ব্যয়ের তথ্য চেলে তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান।
ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, শাজাহান আলী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ এসেছে। তবে তাদের কোন প্রকল্প দেয়া হয়নি। তিনি নিজেদের লোক দিয়ে কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত থাকাই ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কাজ থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে এবং একই ব্যক্তি দুইটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে পারে কিনা তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখা উচিত বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, আগের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মারা যাবার আগে ৩৮ লাখ টাকা রেখে গিয়েছিলেন সেই টাকারও কোন হাদিস নেই। তবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাজাহান আলী বলেন, তিনি ওইসব টাকা পাননি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ জ়ামানকে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকবাল হোসেনকে মুঠোফোনে কল করলে তিনি জানান, একই ব্যক্তি দুইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন কলেজের বিষয়টি আমার জানা নেই প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য করুন