রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগি ইউনিয়নের সায়েস্তাপুর এলাকায় জায়গা জমিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হন মো: ফজলে রাব্বি, তোবারক সরদার ও মনিরুল ইসলাম পানু। গত ৩১ অক্টোবর শুক্রবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় এই ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এই হামলার ঘটনায় কালুখালী থানার ১০ জনসহ অজ্ঞাত নামা আরো চার পাঁচজনের বিরুদ্ধে ০১/১১/২৫ তারিখে একটি মামলা রুজু করা হয় যার মামলা নম্বর ০১ এবং এজাহার ভুক্ত আসামিরা হলেন, ১। মোঃ হিমেল মাহমুদ (২৫), পিতা-মোঃ সামাদ মোল্যা, সাং সায়েস্তাপুর ২। মোঃ সাগর মোল্যা (৩০), পিতা-মোঃ আমির আলী মোল্যা, ৩। মোঃ মিজান বিশ্বাস (৪৫) পিতাঃ মৃতঃ ইয়ার উদ্দিন বিশ্বাস, ৪। মোঃ জসিম (৪০ পিতাঃ মৃতঃ আমরে, ৫। মোঃ সফিক মোল্যা (২৫), পিতাঃ মৃতঃ আইয়ুব আলী মোল্যা, সর্ব সাং বড়কলকলিয়া, ৬। মোঃ রুবেল মন্ডল (৩০) পিতাঃ মোঃ হুমায়ূন মন্ডল ৭। মোঃ ইমরান মোল্যা (২৬) পিতাঃ মোঃ সামাদ মোল্যা ৮। মোঃ বাহার উদ্দিন মোল্যা (২৩) পিতাঃ মোঃ সামচু মোল্যা, ৯। মোঃ রইং মোল্যা (৩০) পিতাঃ মোঃ আব্দুল মোল্যা, সর্ব সাং সায়েস্তাপুর, ১০ রফিক মোল্যা (২৪) পিতাঃ মৃত আইয়ুব আলী মোল্যা, সাং-বড়কলকলিয়া, সর্ব থানাঃ কালুখালী জেলা- রাজবাড়ী।
অভিযোগকারী ফজলে রাব্বি জানান, আসামিদের সাথে আমাদের জমি-জমা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত্রুতা চলিতেছিল। তারি জের ধরে গত ৩১/১০/২০২৫ ইঃ তারিখ অনুমান সন্ধ্যা ০৬.৩০ ঘটিকার সময় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র সহ বেআইনী জনতা বন্ধে আমার বাড়ীর সামনের পাকা রাস্তার উপর এসে আমার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে, আমি গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ৩নং আসামী: মোঃ মিজান বিশ্বাস (৪৫) এর হুকুম দিয়ে বলে যে, শালার বেটাকে খুন করে ফেল, হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে ০১নং আসামীঃ মোঃ হিমেল মাহমুদ (২৫) আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে তাড়া করে। আমি জীবন বাঁচানোর ভয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার দিলে আমার আপন চাচ তোবারক সরদার আমাকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসিলে ০১নং আসামীঃ মোঃ হিমেল মাহমুদ (২৫) এর হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়ে আমার চাচাকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথা বরাবর কোপ মারিলে কোপটি চাচার মাথার ডান পাশে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত যখম হয়। আাামি মোঃ সাগর মোল্য (৩০) এর হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়ে আমার চাচাকে খুন করার উদ্দেশ্যে চাচার মাথা বরাবর কোপ মারিলে কোপটি জীবন বাঁচানোর জন্য ডান হাত দিয়ে বাধা দিতে গেলে হাতের তিনটি আঙ্গুলে কেটে যায়। ০৪নং আসামী মোঃ জসিম (৪০) এর হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়ে আমার চাচাকে। খুন করার উদ্দেশ্যে তাহার মাথা বরাবর কোপ মারিলে উক্ত কোপ সে বাম হাত দিয়ে ফিরাইলে তাহার ধাম হাতের বাহুতে লাগিয়া গুরুতর রক্তাক্ত যখম হয়। আমার চাচা মাটিতে আহত অবস্থায় পড়ে গেলে উপস্থিত সকল আসামীরা এলোপাতারি মারধর করে। আমাদের ডাক চিৎকারে আমার আপন চাচা মনিরুল ইসলাম পান্নু মাষ্টার (৩২) আমাদেরকে আসামিদের হাত থেকে বাচানোর জন্য দৌড়িয়ে আসলে আসলে ০৫নং আসামীঃ মোঃ সফিক মোল্যা (২৫) এর হাতে থাকা ছ্যান দা দিয়ে তাহার মাথা বরাবর কোপ মারিলে সে মাথা সরাতে গেলে ঠোটে লেগে রক্তাক্ত গুরুতর যেখম হয় এবং ৬টা সেলাই পড়ার মতো ফাক হয়ে যায় । ০৬নং আসামীঃমোঃ রুবেল মন্ডল (৩০) এর হাতে থাকা বাশের লাঠি দিয়ে আমার চাচা মনিরুল ইসলাম পান্নু মাষ্টার (৩২) এর মাথায় খুন করার উদ্দেশ্যে বারি মারে তিনি মাথা সরিয়ে নিলে উক্ত বারি কাঁধে লেগে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা যখম হয়। ০৭নং আসামীঃ মোঃ ইমরান মোল্যা (২৬) এর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে আমার চাচা তোবারেক সরদার এর মাথায় বারি মারিলে সে মাথা সরাইয়া নিলে এবং ডান হাত দিয়ে ফিরাইলে তাহার ডান হাতের তরজুনি আঙ্গুলের হাড় ভাঙ্গা গুরুতর যখম এয়। ০৮নং আসামীঃ মোঃ বাহার উদ্দিন মোল্যা (২৩) আমার চাচা তোবারেক সরদার এর পকেটে থাকা ৫৭০০/= (পনের হাজার সাতশত) টাকা কেরে নিয়ে যায়। ০৯নং আসামীঃ মোঃ রইচ মোল্যা (৩০) আমার চাচা মনিরুল ইসলাম পান্নু মাষ্টার এর পকেটে থাকা ২৫,৫০০/= (পচিশ হাজার পাঁচশত) টাকা কেড়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আমরা কালুখালী থানায় একটি মামলা করেছি। আমাদের দাবি এর জন্য সুষ্ঠু তদন্ত করে সঠিক বিচার হয় এবং কোন রাজনৈতিক চাপের কারনে আসামিরা যেন এখান থেকে বের হতে না পারে।
এ বিষয়ে কালুখালী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুর রহমানকে ফোন করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি জানান,আমার বিষয়টি জানা নেই আপনি কালুখালি থানার ওসিকে ফোন করেন।

মন্তব্য করুন