হাজারো হাফেজের মিলনমেলা, কুরআনের আলোয় আলোকিত এক শহর - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হাজারো হাফেজের মিলনমেলা, কুরআনের আলোয় আলোকিত এক শহর

মিশরের গিজা প্রদেশের শান্ত শহর আল-সাফ। গত সপ্তাহান্তে শহরটি যেন রূপ নিয়েছিল এক আধ্যাত্মিক উৎসবে, যেখানে পবিত্রতার ছোঁয়া মিশে গিয়েছিল আনন্দ, গর্ব আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুর সঙ্গে।

কুরআনের তিলাওয়াতের সুরে ভেসে উঠেছিল চারপাশের বাতাস, আর সেই সুরে যেন দুলছিল পুরো শহর এক উৎসব, এক ভালোবাসা, এক আলোকিত প্রজন্মের কণ্ঠে।

আল-গাম্মাজা আল-কুবরা গ্রামের ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মহিমান্বিত আয়োজনে সম্মানিত করা হয় এক হাজার ত্রিশ জন হাফেজে কুরআনকে। কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা এই নবীন প্রজন্মকে ঘিরে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল গিজা অঞ্চলের ইতিহাসে এক অনন্য স্মৃতিচিহ্নে। অনুষ্ঠানে যোগ দেন হাজারো মানুষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আলেম, স্থানীয় সমাজনেতা, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও।

মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল তিলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনি, আর দর্শকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল গভীর প্রশান্তি। কেউ দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছছিলেন, কেউবা গর্বভরে তাকিয়ে ছিলেন সেই ছোট ছোট হাফেজদের দিকে যারা আল্লাহর বাণী নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে।

অনেক মা তাদের সন্তানদের বুকভরা ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেছিলেন, মাথায় পরেছিলেন বিশেষ মুকুট যার লেখা ছিল “প্রথম সহস্র হাফেজ প্রজন্মের প্রতীক”। দৃশ্যটি যেন এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে ভালোবাসা, ঈমান ও আত্মত্যাগ একসাথে মিলেমিশে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদেরা। তারা বলেন, কুরআন মুখস্থ করা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির পথ, মানবতার দিশা। এই প্রজন্ম কুরআনকে শুধু উচ্চারণ করছে না, বরং জীবনের প্রতিটি রক্তধারায় ধারণ করছে।

স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, আল-সাফের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সমাজে নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে, এখানকার পরিবারগুলো আজ গর্বিত, কারণ তাদের সন্তানরা কুরআনের হেফাজতকারীতে পরিণত হয়েছে।

গিজার মানুষদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি যেন শত বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা। যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনো মঞ্চের আলো নিভছিল না। শিশুরা কণ্ঠে তুলেছিল কুরআনের আয়াত, আর আকাশ জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আল্লাহর পবিত্র নাম।

সেই রাতটি আর পাঁচটা রাতের মতো ছিল না। এটি ছিল এমন এক রাত, যখন একটি শহর কুরআনের আলোয় সত্যিই আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আল-সাফের মানুষ যেন সেদিন বলেছিল যে সমাজ কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করে, তার অন্ধকার আর থাকে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা মুবাশির

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১০

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১১

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১২

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৩

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৪

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৫

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৬

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৭

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৮

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

১৯

পশ্চিমবঙ্গে কোরবানি ঈদের ছুটি কমিয়ে ১ দিন করল শুভেন্দুর সরকার

২০