জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মঙ্গলবার জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের দলগত বিচার, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শোক প্রস্তাবসহ একাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা, সমালোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র ও প্রাণবন্ত বিতর্ক, মন্ত্রীদের জবাব এবং নতুন বিল পাসের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রমে এক নতুন গতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।
জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যকরের দাবি
সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার সম্পর্কে সাম্প্রতিক আলোচনা’ শীর্ষক বিষয়টি উত্থাপন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একইসঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার জোর দাবি তোলা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পুরোদমে চলছে। বর্তমানে ৫৯০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আরও ১২টি মামলার তদন্ত শেষ হয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট আরও বাড়ানো হবে। আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল এবং পরে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সরকার সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে এবং তিনি তাদের আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।
মন্তব্য করুন