ফ্রান্সের উপনিবেশকে ‘রাষ্ট্রীয় অপরাধ’ ঘোষণা করতে আলজেরিয়ার পার্লামেন্টে একটি আইন প্রণয়নের ব্যাপারে ভোটাভুটি হবে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোটাভুটির সঙ্গে ফ্রান্সকে ক্ষমা প্রার্থনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হবে।
এই ভোট এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশ বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটে জড়িয়ে আছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, ফ্রান্স আলজেরিয়ায় তাদের ঔপনিবেশিক অতীত এবং এর ফলে সৃষ্ট ট্র্যাজেডির জন্য আইনিভাবে দায়ী।
পার্লামেন্টের স্পিকার ব্রাহিম বুগালিকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি ‘একটি সার্বভৌম পদক্ষেপ’।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় ক্ষেত্রেই এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, আলজেরিয়ার জাতীয় স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না।
১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত আলজেরিয়ায় ফরাসি উপনিবেশ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো একটি সংবেদনশীল বিষয়। আলজেরিয়ায় ফরাসি শাসনে গণহত্যা ও ব্যাপক নির্যাতনের সঙ্গে লোকজনকে নির্বাসনও করা হতো। এ শাসন ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সালের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত চলে।
আলজেরিয়া বলেছে, এই যুদ্ধে ১৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ফরাসি ইতিহাসবিদরা মোট মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে ৫ লাখ বলে দাবি করেছেন।
এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আলজেরিয়ার উপনিবেশকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে স্বীকার করেছেন। তবে এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি তিনি।
মন্তব্য করুন