মাদুরোর পদত্যাগই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’-ডোনাল্ড ট্রাম্প - সমকন্ঠ
শুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:২১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মাদুরোর পদত্যাগই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’-ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর জন্য পদত্যাগ করাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’। ভেনিজুয়েলার তেল রপ্তানি ঘিরে দেশটির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্পের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান মাদুরো। এদিকে মাদুরো সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সোমবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মাদুরো পদ ছাড়বেন কি না, তা তার নিজের সিদ্ধান্ত। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, সেটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’

তিনি আরো হুঁশিয়ারি দেন যে, মাদুরো যদি কঠোর অবস্থান নেন, তবে, সেটাই হবে তার শেষবারের মত কঠোর পদক্ষেপ।’

তবে, এর কয়েক ঘণ্টা পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান মাদুরো। তিনি বলেন, হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত ট্রাম্পের। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে মাদুরো বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নিজের দেশের দিকেই মন দিলে তিনি ভালো করতেন। বিশ্বে ভালো থাকতে চাইলে নিজের দেশের কাজই সামলানো উচিত।’

এদিকে, ভেনিজুয়েলার প্রধান মিত্র রাশিয়া মাদুরো সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে থাকা মস্কো এই অবস্থান নেয় মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগের দিন। ওই বৈঠকে ভেনিজুয়েলার ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে কথিত মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলা ও দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা রোববার এএফপিকে জানান, তৃতীয় একটি জাহাজের পেছনে ধাওয়া চলছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সের্গেই লাভরভ ও ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিলের মধ্যে আলোচনায় ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি রাশিয়া পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে, এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এসব অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে জেলেরাও ছিলেন বলে পরিবার ও বিভিন্ন সরকার জানিয়েছে।

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ ট্রাম্প ভেনিজুয়ায় যাতায়াতকারী ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের’ বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, মাদুরোর অধীনে কারাকাস তেলের অর্থ ব্যবহার করছে ‘মাদক সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণে’ অর্থ যোগাতে। তিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সব তেল নিয়ে নিয়েছে’। এটি দেশটির তেল খাত জাতীয়করণের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেটা ফেরত চাই।

এর জবাবে কারাকাস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ওয়াশিংটন সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’র অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে ভেনিজুয়েলা।

রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসংঘে, উভয় দেশ সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। ভেনিজুয়েলার আরেক মিত্র চীনও নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার অভিযোগ, এটি ‘চলমান মার্কিন আগ্রাসন’ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজন।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল জানান, তিনি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্যারিবীয় অঞ্চলে সংঘটিত ‘আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজে হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চালানো বেআইনি জলদস্যুতা কার্যক্রম।

গিল বলেন, এসব বৈরী তৎপরতার মুখে মস্কোর ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন লাভরভ।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কারাকাসের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থনকে গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়বে—এ নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন নয়। কারণ, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার ‘অত্যন্ত ব্যস্ত পরিস্থিতে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো সমাধান না হওয়ায় মস্কোর প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাদুরোর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পড়ে শোনান গিল। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানির সরবরাহে প্রভাব ফেলবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউপি নির্বাচনে রয়েছে যেসব প্রতীক

১

হুতিদের হামলার মুখে এবার সৌদির পাশে দাঁড়াল মিসর

২

ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল

৩

দুর্ঘটনা রোধে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের পুলিশ সদর দপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

৪

মামদানির হু’মকি ও গ্রেপ্তারের ভয়ে জেএফকে বিমানবন্দরে নামছেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী

৫

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ, ১০৩ এনওসি বাতিল

৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও কমানোর ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর

৭

বাস ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

৮

১৮০ দিনে বিচার না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

৯

নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘গণহত্যার স্থপতি’: মামদানি

১০

সাংবাদিক হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, ২৪ ঘণ্টায় জামিন পেলেন এমপির চাচা-পিএস

১১

রাবি শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় ৪ রেলকর্মী সাময়িক বরখাস্ত

১২

রাজশাহী স্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধরে সম্পৃক্ততা নেই আনসারের

১৩

সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

১৪

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

১৫

এবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকার

১৬

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫

১৭

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

১৮

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

১৯

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

২০