বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ত.ম শহিদুজ্জামান নাসিম (৭৫), সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারি এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মালিথা (৫২), লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুরলিয়া এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা লালন প্রামানিক (৩৭) ও একই এলাকার যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৭)।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুন নূর জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুজ্জামান নাসিম একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহানের মামলার সাক্ষী ছিলেন।
আবদুস সোবহান পাবনা জেলা জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আমির ও মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি জামায়াত থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পাবনায় শান্তি কমিটি গঠিত হলে সোবহান প্রথমে ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পরে সহ-সভাপতি হন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আওয়ামী শাসনকালে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সোবহানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তবে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সবশেষ ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোবহানের মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন