অন্তর্বর্তী সরকার যেটাকে আজাদি বলছে, আমি সেটাকে বলি গোলামি- জিএম কাদের - সমকন্ঠ
সোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অন্তর্বর্তী সরকার যেটাকে আজাদি বলছে, আমি সেটাকে বলি গোলামি- জিএম কাদের

বাইরের কোনো শক্তির প্ররোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার দেশে আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর সুপার মার্কেট এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের কোনো গভীর সম্পর্ক নেই। তারা কখনো দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল না। অথচ এখন তারা বাইরের কোনো শক্তির ইশারায় দেশকে একটি নির্দিষ্ট পথে ঠেলে দিতে চাইছে। তারা যেটাকে আজাদি বলছে, আমি সেটাকে বলি গোলামি। তারা একটি দেশের গোলামি প্রতিষ্ঠার জন্যই এসব করছে। তারা ইনসাফের কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে এটি চরম বেইনসাফ ছাড়া কিছুই নয়।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আজ দেশে চিহ্নিত খুনিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, আর নিরীহ সাধারণ মানুষকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে। সবখানে অন্যায় ও অত্যাচার চলছে। ইনকিলাবের নামে দেশকে ধ্বংস করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম। দেশবাসীকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবলমাত্র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত গণভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। ভবিষ্যতে একদিন এটি দেশদ্রোহিতার শামিল হিসেবে প্রমাণিত হবে—এটাই আমার বিশ্বাস।

জি এম কাদের অভিযোগ করে বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশকে সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে হবে। আমরা গণসংযোগে অত্যন্ত ভালো সাড়া পাচ্ছি। রংপুর বিভাগের প্রতিটি আসনেই আমাদের প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে নানা অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে আমরা আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারিনি। তবে যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়, সঠিকভাবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তাহলে এবার জাতীয় পার্টি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভোট ও আসন অর্জন করবে।

নারী অধিকার ও সামাজিক কাঠামো প্রসঙ্গে এই রাজনীতিবিদ বলেন, আমাদের দেশে নারী ও পুরুষ একসাথে কাজ করে। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম অন্তর থেকে পালন করি। এ কারণেই বাংলাদেশ একটি ধার্মিক, সহানুভূতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক দেশ। অথচ একটি গোষ্ঠী বলছে নারীরা চাকরি করতে পারবে না। তাহলে যেসব পরিবারে একমাত্র সন্তান একজন মেয়ে, তারা কীভাবে চলবে? তারা দাবি করছে নারীরা কাজ করলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে। ইসলামে এমন কোনো কথা নেই। তাহলে এই ধারণাগুলো তারা কোথা থেকে পেল?

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

১০

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

১১

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

১২

ডাক বিভাগের রেকর্ড: ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

১৩

তারেক রহমানের সফর নিয়ে জানানোর মতো তথ্য নেই: নয়াদিল্লি

১৪

দেশের অস্ত্র ঘাটতির সংবাদ প্রকাশকারীরা ‘দেশদ্রোহী’: ট্রাম্প

১৫

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

১৬

দীর্ঘায়িত হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, প্রস্তুতি চলছে ২০২৭ সালের

১৭

হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

১৮

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের অনিশ্চয়তায়

১৯

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না

২০