
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের করা হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. রুহুল আমিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রুহুল আমিন কুষ্টিয়া ৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী এবং উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে।
এরআগে, গত শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পরিচয়দানকারী মারুফ হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। আমিরুল মামলার এজাহারনামীয় ১০ নম্বর এবং মারুফ ৪ নম্বর আসামি। রোববার সকালে আদালতে পাঠালে দুপুরেই তাদের জামিন দেন বিজ্ঞ আদালত। এতে জেলাজুড়ে সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সাংবাদিক হত্যা চেষ্টার আসামিদের কারাগারে প্রেরণ না করে জামিন দেওয়ায় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আজ সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া জজ কোর্ট আদালত চত্বরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামনু সাগর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান ডাবলু ও আবু মনি জুবায়েদ প্রমূখ। তারা আসামিদের জামিন বাতিল করার পাশাপাশি বিজ্ঞ বিচারককে অপসারণ এবং সাংবাদিক হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কুষ্টিয়া আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল আলম বলেন, কুমারখালী আমলি আদালতে (চ অঞ্চল) আসামি আমিরুল ও মারুফকে নেওয়া হয়। পরে আদালত তাঁদের জামিন দিয়েছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস। এ সময় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় তিনি বাদী হয়ে থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও পিএস পরিচয়দানকারী মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিক উল্লাস বর্তমানে কুমারখালী পৌরসভার এলংগী এলাকার নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ আমার ক্ষত এখনও শুকায়নি। তার আগেই আসামিদের জামিন হয় কি করে। আমি সুষ্ঠ বিচার নিয়ে সন্দিহান। সরকার যেন আমার হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করেন।’
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রধান আসামি রুহুলকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি দোষ স্বীকার করেছেন। এরআগে, গত শনিবার রাতে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছিল। তবে আসামি জামিনের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিক হত্যা চেষ্টার সকল আসামিদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।
মন্তব্য করুন