মিয়ানমারে সেনা-নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শুরু - সমকন্ঠ
শুক্রবার , ১৯ জুন ২০২৬
সমকন্ঠ
১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারে সেনা-নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শুরু

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোববার (১১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর আগে প্রথম দফার ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে জান্তার শাসন আনুষ্ঠানিক হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তৎকালীন বেসামরিক সরকার উৎখাত করে। ওই সময় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে আটক করা হয়। অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটির বিস্তীর্ণ অংশে প্রভাব ফেলেছে।

সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় লাভ করেছিল। চলতি নির্বাচনের জন্য দলটি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয় এবং পরে জান্তাবিরোধী অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ভোটে অংশ নেয়নি। জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বাস্তব কোনো বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন ‘প্রহসন’ হিসাবে বিবেচিত হবে।
প্রথম দফার ভোটে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে দলটি। ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫২.১৩ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের তুলনায় অনেক কম।

ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘ইউএসডিপির ভূমিধস জয় অবাক করা বিষয় নয়। নির্বাচনী মাঠ তাদের অনুকূলে রাখা হয়েছে, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সরানো হয়েছে এবং ভোট বিরোধী কার্যক্রম দমন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’

চূড়ান্ত দফার ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হবে, যার মধ্যে কিছু এলাকায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

সেনা নির্বাচনকে দেশকে রাজনৈতিক স্থিরতা ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে দেশটি এশিয়ার অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনা-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন গঠন ঝুঁকিপূর্ণ, এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হবে।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নির্বাচনের সফলতা উল্লেখ করেছেন এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধের পর আমার ক্ষমতার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই- ট্রাম্প

জোট ছাড়াই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি এনসিপির

যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গাড়িতে গুলি, নিহত ১

পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

নতুন সমীকরণে লাভবান ইরান, উদ্বেগে প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা

নাইজারের বিমানবন্দরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা, নিহত ৩৫

মেসির বাবার মৃত্যুর খবর প্রচার করে চাকরি হারালেন উপস্থাপিকাসহ পুরো টিম

১৫ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করল সংযুক্ত আরব আমিরাত

সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ‘ জীবন ও কর্ম ‘ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

পরীমণিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

১০

চলতি অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪.৫৭ বিলিয়ন ডলার

১১

খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সেই পুলিশ দম্পতি কারাগারে

১২

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানালেন জামায়াত আমির

১৩

উরুগুয়ের বিপক্ষে নামার আগে মায়ের দেখা হবে ভোজিনহার

১৪

ব্যাংক খাতে লোকসান বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

১৫

মোদি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র হলেও বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’- ট্রাম্প

১৬

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করবে সরকার- তথ্যমন্ত্রী

১৭

ইরান শক্ত অবস্থানে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে- গালিবাফ

১৮

প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক হবে শি’র সঙ্গে

১৯

ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার গুলিবর্ষণ, ‘বেপরোয়া’ বললেন স্টারমার

২০