স্বৈরাচারী শাসকদের কেউ কোনোদিন নিজেদের জায়গায় ফিরতে পারেনি, তাই শেখ হাসিনাও আর ফিরবেন না বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আমির হামজা বলেন, একটি গোষ্ঠী ১১ দলীয় জোট ভাঙার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী বিশ্বের কোটি মানুষের শ্রদ্ধার আলেম। তার ছবির ওপর যারা জুতা নিক্ষেপ করেছে, তারা দেশ ও ইসলামের শত্রু। ছাত্রদল বা যুবদলের পরিচয় দিলেও এদের মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্রকারী মহল প্রবেশ করেছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এসব ‘গুন্ডাবাহিনী’ সামলাতে না পারলে তাদের অপকর্মই সরকারের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কুষ্টিয়ার প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে মুফতি আমির হামজা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, একটি পক্ষ চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে মত্ত থেকে কুষ্টিয়ার ডিসি, টিএনও এবং হাসপাতালের ডিডিকে বদলি করিয়েছে। ফলে কাদের নিয়ে কাজ করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি রাষ্ট্র থেকে আসা সুযোগ-সুবিধা ও সম্মাননা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বর্তমান সরকারকে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়ে আমির হামজা বলেন, ‘আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি, দেশটা ভালোভাবে চালান। আপনারা পাঁচ বছর চালান আমাদের সমস্যা নেই, তবে জনআকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে।’ তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা রাজপথে নামলে সরকারের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সরকারকে জুলাই সনদ মেনে নিয়ে ষড়যন্ত্র এড়িয়ে দেশ গঠনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক এবং এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একতারা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন