কুমারখালীতে ব্রিটিশ আমলের টানেল যেন আধুনিক যুগের ভোগান্তির নাম - সমকন্ঠ
বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
সমকন্ঠ
৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কুমারখালীতে ব্রিটিশ আমলের টানেল যেন আধুনিক যুগের ভোগান্তির নাম

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি রেল টানেলের নিচের সড়ক দিয়ে এখন স্থানীয়দের চলাফেরা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং অপরিকল্পিতভাবে আশপাশের জমি ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
২০ মিটার সড়কটি পাকা অথচ বছরের প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস হাঁটুসমান পানির নিচে ডুবে থাকে। এতে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই টানেলের নিচ দিয়েই কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত হয়ে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে এলাকায় কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই।

ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি টানেলের নিচে জমে থাকে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এভাবেই বছরের প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস পানির নিচে ডুবে থাকে সড়কটি। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানেলের দুই পাশে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়েই কাপড় গুটিয়ে, মাথায় ব্যাগ তুলে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও কর্মস্থলে যাচ্ছেন মানুষ।

স্থানীয় পথচারীরা জানান, শুধু বর্ষাকালেই নয়, বর্ষা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। অনেক সময় বিকল্প পথে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। এখানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার প্রয়োজন।

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কুমারখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, এই জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পানি জমে থাকে। স্থায়ী সমাধানের জন্য মহাসড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রয়োজন। যা এলজিইডির পক্ষে সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত আছি। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। টানেলটি ব্রিটিশ আমলের হওয়ায় এর উচ্চতা ও কাঠামোগত বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরিকল্পিতভাবে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে ছিল না সাজার তথ্য

১

সৌদির রাজধানীতে জোড়া বিস্ফোরণের শব্দ

২

গৃহবন্দী অং সান সু চিকে বই ও চিঠি পাঠালেন রাজা তৃতীয় চার্লস

৩

প্যারিসসহ ফ্রান্সের একাধিক শহরে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি

৪

ইরান যুদ্ধে ন্যাটো ‘সাহায্য করেনি’: ট্রাম্প

৫

এই পার্টির ভবিষ্যৎ জিরো: ইশরাক হোসেন

৬

শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর

৭

সৌদি আদালতের রায়ের কপির অপেক্ষায় ঢাকা

৮

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অধিকাংশই মাদক মামলায়

৯

ফ্রান্সে সহিংসতা ঠেকাতে কারফিউ জারির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১০

ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

১১

আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

১২

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মকর্তাদের রদবদল

১৩

অনুমতি না পাওয়ায় স্থগিত আমির হামজার মাহফিল

১৪

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিভিতে মিথ্যা তথ্য, পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট

১৫

ইয়েমেন ইস্যুতে ওআইসি প্রস্তাবে সমর্থন নাও দিতে পারে ইরান: আরাগচি

১৬

শান্তি আলোচনার জন্য বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে: আরাগচি

১৭

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারালেন নূর আলম

১৮

সৌদি আরব-ইয়েমেন সংঘাত নিরসনে প্রস্তুত তেহরান: বাঘেই

১৯

সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করছে ইসরায়েল: ট্রাম্প

২০