রাজনৈতিক নেতা বা অন্য কোনো প্রভাবশালী তদবির করলে অবৈধ সিসা বার খুলতে দেওয়া হবে না। এছাড়া কোথাও সিসা বার চালুর চেষ্টা করা হলেই অভিযান চালানো হবে। শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘অবৈধ সিসা বার চালাতে প্রভাবশালীদের চাপ’ শিরোনামে শনিবার যুগান্তরে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিকালেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, সিসা বারগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিজেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করেন। তিনি অবৈধ সিসা বারগুলোর বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। কোনো প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে অবিলম্বে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া তিনি র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহনীগুলোকেও এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই ছুটির দিন হলেও শনিবার বিকালে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নারকোটিক্সের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে একাধিক টিম গঠন করে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পরপরই গুলশান ও বনানী এলাকায় তারা অভিযান শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারকোটিক্সের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা অভিযান এবং কড়াকড়ির কারণে গুলশান ও বনানী এলাকার প্রায় সব সিসা বার বন্ধ। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গোপনে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে এমন খবর পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে বনানী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে এখনো সিসা বার চলছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনার পর সেখানেও অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, সিসা বার নিয়ে সরকারের কঠোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। কোথাও সিসা বার চালু হয়েছে এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অভিযান চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি বন্ধ সিসা বার ফের চালুর জন্য কেউ তদবির বা সুপারিশ নিয়ে এলে তাকেও আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন