কুষ্টিয়ায় মামলার বাদি বৃদ্ধা নারীকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নাশকতার মামলায় আসামী দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে আদলাত বৃদ্ধা নুর জাহান বেগমকে জেল হাজতে পাঠায়।
রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাড়ি থেকে ৬৫ বছর বয়সি নুর জাহান বেগমকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজের বাড়ি ও গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ৬দিন আগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নুর জাহান বেগম। সেই মামলায় আসামী করা হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষকদলের ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫/৩০ জনকে। কয়েকদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওই নারীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলায় স্থানীয় কৃষকদলের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের দায়ি করা হয়। পরদিন এ ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০-১২০ জনকে আসামী করে মামলা হয়। অভিযোগ, মামলার আসামীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতা।
এদিকে কৃষকদল অফিসে হামলার ঘটনার পর এলাকার ২০-২৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের বাড়িও রয়েছে।
নুর জাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী জানান, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে সামাজিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমাদের বাড়িতে ও গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায় এলাকার একদল মানুষ। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি শিল্পীর। তিনি বলেন, তার মা বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া আদালতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত এলাকার কিছু মানুষকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত দিয়েছে।
শিল্পী জানান, মামলা করার পর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বিভিন্ন ভাবে। এরপর রোববার সকালে মা রান্নাবাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় সকালে একদল পুলিশ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা মাকে বলেন, ‘আপনি আদালতে গুদাম পুড়ানোর মামলা করেছেন। মামলার বাদী আপনি। এ কারনে ওসি সাহেব আপনার সাথে কথা বলবে। আমাদের সাথে চলুন। এই বলে কয়েকজন নারী পুলিশ তাকে গাড়ীতে তোলে। এরপর নিয়ে যায়। এরপর কোথায় তাকে রাখা হয়েছে তা জানি না। বাড়িতে ১৫ বছর বসয়ী আমার অটিজম এক কন্যা রয়েছে। মাসহ আমরা তিনজন বাড়িতে ছিলাম।’
এ ব্যাপারে রবিবার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই আমি থানার বাইরে আছি, থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবো। তবে বিকেলে পুনরায় ওসির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ওসি দাবি করেন, নুরজাহান কৃষকদল অফিসে হামলার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তাকে অফিস ভাঙার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন