বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল - সমকন্ঠ
সোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল

বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় নাফ নদী থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত টহল জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

সম্প্রতি জলদস্যুরা মাছধরা ট্রলারে হামলা চালিয়ে জেলেদের নির্যাতন, জিম্মি এবং জাল-মাছসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটে নিচ্ছে। এমনকি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কুতুবদিয়ার শাহাদাত নামে এক জেলে দস্যুদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর সমুদ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে দস্যুতা ঠেকাতে আধুনিক রাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং উচ্চগতির স্পিডবোটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড।
সমুদ্রে দস্যুদের তাণ্ডবের শিকার হওয়া কুতুবদিয়ার ‘উম্মে হাবীবা’ ট্রলারের মাঝি রশিদ উল্লাহ জানান যে, ১২ দিনের মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে গভীর সমুদ্রে তারা ডাকাতদের কবলে পড়েন। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানানো সম্ভব হয়নি এবং দস্যুরা তাদের মারধর করে সব মাছ লুটে নেয়।

একইভাবে ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের মাঝি সাব্বির আহমদ অভিযোগ করেন যে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সোনাদিয়া এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দস্যুরা ছদ্মবেশে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের নিরুপায় করে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে এবং ট্রলারের যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দিচ্ছে।

জলদস্যু দমনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে কোস্টগার্ডের শাহপরী স্টেশন কমান্ডার লে. মো. শাহাদাত হোসেন নাঈম বলেন যে, সমুদ্র এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্টগার্ড এখন ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে ভিএইচএফ ও এইচএফ কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সন্দেহজনক জলযানের গতিবিধি শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।

তিনি আরও জানান যে, গত দুই মাসে বিশেষ অভিযানে ৩০ জন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দস্যুদের কবলে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত শুক্রবার কোস্টগার্ডের চট্টগ্রাম বেইস এবং বিভিন্ন স্টেশনের সমন্বয়ে দিনব্যাপী এক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের ‘অপারেশন সুরক্ষা’ ও ‘অপারেশন প্রতিহত’ সহ বিভিন্ন বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে।

বর্তমানে কোস্টগার্ডের জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম সংযোজিত থাকায় যেকোনো হুমকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হলে দ্রুত সহায়তার জন্য কোস্টগার্ডের বিশেষ হেল্পলাইন সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১০

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

১১

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

১২

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

১৩

ডাক বিভাগের রেকর্ড: ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

১৪

তারেক রহমানের সফর নিয়ে জানানোর মতো তথ্য নেই: নয়াদিল্লি

১৫

দেশের অস্ত্র ঘাটতির সংবাদ প্রকাশকারীরা ‘দেশদ্রোহী’: ট্রাম্প

১৬

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

১৭

দীর্ঘায়িত হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, প্রস্তুতি চলছে ২০২৭ সালের

১৮

হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

১৯

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের অনিশ্চয়তায়

২০