চট্টগ্রামের ‘ডেভিড ইমন’: প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ - সমকন্ঠ
রবিবার , ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের ‘ডেভিড ইমন’: প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিয়েছেন। ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা ইমন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। যার অর্ধেক টাকাই চলে যেত বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, তার চাঁদাবাজি পরিচালনার সুনির্দিষ্ট একটি চক্র ও পদ্ধতি ছিল। প্রথমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের মালিকদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে টার্গেটকৃত ব্যবসায়ীদের গতিবিধির নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হতো—যেমন তিনি বর্তমানে কী রঙের পোশাক পরেছেন কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় চলাচল করছেন। কথামতো চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর বা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হতো। ভয়ে ভুক্তভোগীরা ঝামেলা এড়াতে মুখ না খুলে নগদ টাকায় সমঝোতা করে চাঁদা পরিশোধ করতেন।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, ইমনের চাঁদাবাজির মাসিক হিসাব ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হতো বিদেশে পলাতক তার গুরু সাজ্জাদ আলীর কাছে (যা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হতো), ১৫ লাখ টাকা খরচ হতো দল পরিচালনার পেছনে এবং বাকি টাকা ইমন নিজে রাখতেন।

ইমন পুলিশকে আরও জানিয়েছেন যে তার বাহিনীতে প্রায় সহস্রাধিক সহযোগী ও অন্তত ৫০ জন সক্রিয় শুটার রয়েছে। তবে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত ওমানপ্রবাসী মো. মুসার ছেলে ইমন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর মাধ্যমে অপরাধ জগতে পাকাপোক্তভাবে যুক্ত হন তিনি। গত বছর বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী ‘ছোট সাজ্জাদ’ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান যৌথভাবে চট্টগ্রামের এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নেন।

ইমনের বিরুদ্ধে বাকলিয়ার জোড়া খুন এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকার ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ১৫টি গুরুতর মামলা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ ইমন সাধারণত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রাখতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ তাঁর হুন্ডি চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

১০

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

১১

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

১২

ডাক বিভাগের রেকর্ড: ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

১৩

তারেক রহমানের সফর নিয়ে জানানোর মতো তথ্য নেই: নয়াদিল্লি

১৪

দেশের অস্ত্র ঘাটতির সংবাদ প্রকাশকারীরা ‘দেশদ্রোহী’: ট্রাম্প

১৫

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

১৬

দীর্ঘায়িত হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, প্রস্তুতি চলছে ২০২৭ সালের

১৭

হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

১৮

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের অনিশ্চয়তায়

১৯

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না

২০