ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ-সেনা মুখোমুখি, সাবেক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৭৪ কেজি সোনা উদ্ধার - সমকন্ঠ
মঙ্গলবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২৬ জুলাই ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ-সেনা মুখোমুখি, সাবেক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৭৪ কেজি সোনা উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক দুর্নীতি মামলা ঘিরে অভূতপূর্ব উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সাবেক শীর্ষ দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়।

গত ৮ জুলাই জাকার্তার এক অভিজাত এলাকায় ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ৭৪ কেজি সোনার বার এবং প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার নগদ। ফেব্রি ছিলেন দেশটির বিশেষ অপরাধ সংক্রান্ত সাবেক উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল। বাড়িটি নিজের বলে স্বীকার করলেও তিনি জব্দকৃত সোনা ও অর্থের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন। এমন ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের সরাসরি অভিযান দেশজুড়ে বড় ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি করে।

ঘটনার পরদিন রাত তিনটার দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফেব্রিকে সমর্থন জানাতে সশস্ত্র সেনা সদস্যদের কয়েকটি দল পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেয়। কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই তারা পরে চলে গেলেও এই মুখোমুখি অবস্থান প্রশাসনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো। উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। সেই অনুযায়ী ফেব্রিকে তার পদ থেকে সরানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাধারণ পুলিশ নয়, বরং তার নিজ সংস্থাই পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। সুহার্তোর একনায়কতন্ত্রের সময় পুলিশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯৮ সালে তার পতনের পর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পুলিশ স্বাধীন হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তখন থেকেই বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে লুকানো ও প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা চলে আসছে। সাধারণত একে অপরের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান হয় না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার মাথাচাড়া দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতোর প্রশাসনের শীর্ষ দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার লড়াইয়ের জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও পুলিশের পেছনে রয়েছে সংসদের নিম্নকক্ষের দলীয় নেতার সমর্থন। প্রেসিডেন্ট যদি এই কোন্দল থামাতে না পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে এমন সংঘাত আবার দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১০

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

১১

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

১২

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

১৩

ডাক বিভাগের রেকর্ড: ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

১৪

তারেক রহমানের সফর নিয়ে জানানোর মতো তথ্য নেই: নয়াদিল্লি

১৫

দেশের অস্ত্র ঘাটতির সংবাদ প্রকাশকারীরা ‘দেশদ্রোহী’: ট্রাম্প

১৬

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

১৭

দীর্ঘায়িত হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, প্রস্তুতি চলছে ২০২৭ সালের

১৮

হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

১৯

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের অনিশ্চয়তায়

২০