এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল - সমকন্ঠ
বুধবার , ২২ জুলাই ২০২৬
সমকন্ঠ
২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল

পায়ের ঝলক দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন তরুণ লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনায় নিজের জাত আগেই চিনিয়েছেন এই উইঙ্গার। স্পেনের হয়েও জিতেছিলেন ইউরোর শিরোপা। এবার নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। মাত্র ১৯ বছরেই বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন এই তারকা।

তবে লামিনে ইয়ামালের এই শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর গল্পটি কেবল ফুটবল মাঠের নয়। এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের সংগ্রাম ও কঠিন আত্মত্যাগের গল্প। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশেষ প্রতিবেদনে ইয়ামালের জীবনের এই অনুপ্রেরণাদায়ী গল্পটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে। তার পৈতৃক দাদি, ফাতিমা রোমানি, পরিবারকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়ার আশায় মরক্কো থেকে একা স্পেনের উদ্দেশে রওনা হন। কোনো আইনি কাগজপত্র ও আর্থিক সাহায্য ছাড়া অচেনা এক দেশে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্পেনে পৌঁছে ফাতিমা প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় অবস্থান করার পর পরিশেষে কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের রকাফোন্দা এলাকায় থিতু হন। সেখানে শুরুতে তার কোনো নিরাপত্তা বা আর্থিক সংস্থান ছিল না। মরক্কোতে রয়ে যাওয়া নিজের সন্তানদের (যার মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই ছিলেন) স্পেনে নিয়ে আসার জন্য ফাতিমা দিনে একাধিক শিফটে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। একটানা কাজ করে জমানো অর্থ দিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিজের কাছে এনে পরিবারকে পুনর্মিলিত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে ইয়ামালের শৈশবে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটলে দাদি ফাতিমা আবারও পরিবারের মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ান। রকাফোন্দার কঠিন পরিবেশের মধ্যেও তিনি ইয়ামালকে আগলে রাখেন, তাকে স্থিতিশীলতা দেন এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন।

পেশাদার ফুটবলে সাফল্য পাওয়ার পরও ইয়ামাল নিজের শৈশব ও দাদির অবদান ভুলে যাননি। মাঠে গোল করার পর তিনি আঙুল দিয়ে যে ‘৩০৪’ সংখ্যাটি প্রদর্শন করেন, তা মূলত রকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড (০৮৩০৪)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।

ইয়ামালের বিভিন্ন মন্তব্য থেকে জানা যায়, ফুটবল মাঠে ট্রফি জেতার চেয়েও তার কাছে বেশি আনন্দের হলো তার বাবা, মা ও দাদিকে শান্তিতে রাখা। ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইয়ামাল তার অর্জিত অর্থ দিয়ে রকাফোন্দাতেই দাদি ফাতিমার জন্য একটি বাড়ি কিনে দেন, যেখানে তিনি আজও বসবাস করছেন। বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে থাকার পরও নিজের অতীত ও দাদির আত্মত্যাগের কথা ইয়ামাল সব সময় গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন- ইসি সচিব

দিল্লির বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ বানাচ্ছে বিরোধীরা- রাজনাথ সিং

নতুন বাংলাদেশ গড়তে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে-কায়সার কামাল

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের হত্যাচেষ্টা মামলা- এক আসামি কারাগারে

লোহিত সাগরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩ দেশের জন্য সতর্ক নির্দেশনা

ভোটের আগে ফিলিস্তিনে হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল

আজও দিল্লির যন্তর মন্তরে বাড়ছে ভিড় ,আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে বিদেশেও

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? জানাল দেশটির গণমাধ্যম

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি মামদানির

১০

বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে ফিফার তহবিল থেকে সর্বোচ্চ অর্থ পাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি

১১

জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

১২

বাবার বেচা জমি রেজিস্ট্রিতে সন্তানদের বাঁধা

১৩

রাহুল গান্ধীকে কোথায় নিয়ে গেছে পুলিশ, জানেন না দলের নেতারা

১৪

কুমারখালীতে কাঙাল হরিনাথের জন্মজয়ন্তী কেটেছে নীরবে

১৫

কুমারখালীতে মাদ্রাসায় বলৎকারের ঘটনায় কমিটির সালিশ, হুজুর আটক

১৬

বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে ফিফা-উয়েফা

১৭

মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন রাহুল গান্ধী

১৮

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

১৯

এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল

২০