জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, চাই না: মির্জা ফখরুল - সমকন্ঠ
রবিবার , ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২ মে ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, চাই না: মির্জা ফখরুল

জিয়া পরিষদকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে সরকারের ভেতরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।

শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জিয়া পরিষদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অনেক সহযোগী অঙ্গ সংগঠন রয়েছে। আরেকটি সহযোগী সংগঠনের দরকার নেই। আমাদের দরকার জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, চাই না। এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আমার চাপে জিয়া পরিষদ কয়েকটি বই করেছে। তারা গবেষণামূলক কাজ করুক, সেটি প্রত্যাশা।

সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারে আসার পর যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদবির সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়ম হয়েছিল, তদবির ছাড়া কাজ হয় না। এটি ১৫ বছরে হয়েছে। অনেকে ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন— এটা দুঃখজনক। এটি সিস্টেমের দোষ। মূলত মেধা ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া সামনে এগোনো যায় না।’

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বাহাস হচ্ছে। তা ভালো, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়।’ তিনি জানান, জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় আমরা ছিলাম। আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি কিছু জায়গায়। আমরা স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলছে, সবটাই করতে হবে। উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদের করতে হবে।

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলে, বিএনপি সংস্কার মানে না। অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার এনেছিলেন। তারা মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। জামায়াত এটা নিয়ে আন্দোলনও করছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা। আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনে কমিটির নাম চেয়েছেন। আশা করি দ্রুত তারা নাম দেবে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে ঠিক করা। এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে। ফ্যাসিস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলে পুনর্গঠন করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ছাত্র রাজনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে। নাহলে এটি অতীতে অনেক ক্ষতি করেছে, আগামীতেও করবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

ডাক বিভাগের রেকর্ড: ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

তারেক রহমানের সফর নিয়ে জানানোর মতো তথ্য নেই: নয়াদিল্লি

দেশের অস্ত্র ঘাটতির সংবাদ প্রকাশকারীরা ‘দেশদ্রোহী’: ট্রাম্প

১০

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

১১

দীর্ঘায়িত হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, প্রস্তুতি চলছে ২০২৭ সালের

১২

হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

১৩

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের অনিশ্চয়তায়

১৪

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না

১৫

কাবাডি খেলায় হেরে যাওয়ায় শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

১৬

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৭

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প-আমিরাত প্রেসিডেন্টের জরুরি ফোনালাপ

১৮

রোগী সেজে তথ্য সংগ্রহের পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দুদকের অভিযান

১৯

নভেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পক্ষে না ট্রাম্পের সহযোগীরা

২০