ইরান থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার কঠিন হবে- ট্রাম্প - সমকন্ঠ
বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরান থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার কঠিন হবে- ট্রাম্প

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা একটি ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’ প্রক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি এই পোস্ট করেন।

ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গত জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং এখন সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো খুঁড়ে বের করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং গত বছরের হামলার পর অবশিষ্ট পারমাণবিক উপাদানগুলোকে ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ বা নিউক্লিয়ার ডাস্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে পিটার বিউমন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
মার্কিন বোমা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ এলাকার পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের স্যাটেলাইট চিত্রেও হামলার পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট দেখা গেছে।

নিজের পোস্টে গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প ‘ফেক নিউজ’ সিএনএন এবং অন্যান্য দুর্নীতিগ্রস্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই অভিযানে অংশ নেওয়া মহান বৈমানিকদের যথাযথ কৃতিত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা সবসময় এই সাফল্যকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে।

ট্রাম্প তার বিরোধীদের এবং সমালোচনাকারী মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘পরাজিত’ বা লুজার বলে সম্বোধন করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের হাতে থাকা এই পারমাণবিক উপাদানগুলো।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে, যদিও তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের এই অমীমাংসিত বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বললেও ওয়াশিংটন চাচ্ছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি

ইসরায়েলি বসতির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের ১২ দেশের সমর্থন

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবে আহত ৭৩

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

১০

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

১১

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

১২

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১৩

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

১৪

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

১৫

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

১৬

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১৭

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

১৮

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

১৯

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

২০