ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই- ট্রাম্প - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই- ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আর কোনো প্রয়োজন নেই। আগামী দুই দিন বিশ্ববাসী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ‘অবিশ্বাস্য’ কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় আপনারা সামনে এক বিস্ময়কর দুই দিন দেখতে চলেছেন। আমি সত্যিই এটি বিশ্বাস করি।

জনাথন কার্লের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সংঘাত দুইভাবে শেষ হতে পারে— হয় একটি আলোচনার মাধ্যমে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে, অথবা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার মাধ্যমে।

ট্রাম্পের ভাষায়, এটি যেকোনোভাবেই শেষ হতে পারে, তবে একটি চুক্তি হওয়াই শ্রেয় কারণ তখন তারা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের চেয়ে আলাদা। ট্রাম্প বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, আমরা কট্টরপন্থিদের হটিয়ে দিয়েছি। তারা এখন নেই, আমাদের সাথে আর নেই।

বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে একটি অসাধারণ দাবিও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জনাথন কার্লকে বলেন, আমি যদি প্রেসিডেন্ট না থাকতাম, তবে পুরো পৃথিবী এখন টুকরো টুকরো হয়ে যেত।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত ফয়সালার দিকে দ্রুত এগোতে চাইছেন এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই ‘দুই দিন’ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে কারণ ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। একদিকে আলোচনার সম্ভাবনা এবং অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি না বাড়ানোর হুমকি মূলত তেহরানকে একটি বড় ধরনের চুক্তিতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী কট্টরপন্থিদের অনুপস্থিতি এবং নতুন শাসনব্যবস্থার সাথে সমঝোতা কতটুকু সফল হবে, তা আগামী কয়েক দিনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই ‘বিস্ময়কর দুই দিন’ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে আসে নাকি নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১১

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১২

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১৩

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৪

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৫

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৬

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৭

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৮

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৯

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

২০