বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল

বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় নাফ নদী থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত টহল জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

সম্প্রতি জলদস্যুরা মাছধরা ট্রলারে হামলা চালিয়ে জেলেদের নির্যাতন, জিম্মি এবং জাল-মাছসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটে নিচ্ছে। এমনকি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কুতুবদিয়ার শাহাদাত নামে এক জেলে দস্যুদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর সমুদ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে দস্যুতা ঠেকাতে আধুনিক রাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং উচ্চগতির স্পিডবোটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড।
সমুদ্রে দস্যুদের তাণ্ডবের শিকার হওয়া কুতুবদিয়ার ‘উম্মে হাবীবা’ ট্রলারের মাঝি রশিদ উল্লাহ জানান যে, ১২ দিনের মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে গভীর সমুদ্রে তারা ডাকাতদের কবলে পড়েন। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানানো সম্ভব হয়নি এবং দস্যুরা তাদের মারধর করে সব মাছ লুটে নেয়।

একইভাবে ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের মাঝি সাব্বির আহমদ অভিযোগ করেন যে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সোনাদিয়া এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দস্যুরা ছদ্মবেশে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের নিরুপায় করে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে এবং ট্রলারের যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দিচ্ছে।

জলদস্যু দমনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে কোস্টগার্ডের শাহপরী স্টেশন কমান্ডার লে. মো. শাহাদাত হোসেন নাঈম বলেন যে, সমুদ্র এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্টগার্ড এখন ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে ভিএইচএফ ও এইচএফ কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সন্দেহজনক জলযানের গতিবিধি শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।

তিনি আরও জানান যে, গত দুই মাসে বিশেষ অভিযানে ৩০ জন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দস্যুদের কবলে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত শুক্রবার কোস্টগার্ডের চট্টগ্রাম বেইস এবং বিভিন্ন স্টেশনের সমন্বয়ে দিনব্যাপী এক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের ‘অপারেশন সুরক্ষা’ ও ‘অপারেশন প্রতিহত’ সহ বিভিন্ন বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে।

বর্তমানে কোস্টগার্ডের জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম সংযোজিত থাকায় যেকোনো হুমকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হলে দ্রুত সহায়তার জন্য কোস্টগার্ডের বিশেষ হেল্পলাইন সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১১

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১২

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১৩

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৪

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৫

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৬

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৭

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৮

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৯

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

২০