রাজশাহীর বাগমারায় জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিতে বলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মারধর করে তার হাত ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, এলাকা ঠান্ডা রাখার জন্য সামান্য চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আওয়ামী লীগের নেতার নাম মুহিদুল ইসলাম (৪৮)। তিনি শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাদোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন পল্লিচিকিৎসক।
অভিযুক্ত সালাম পারভেজে একই ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহত আওয়ামী লীগের নেতা মুহিদুল ইসলাম স্বজনেরা অভিযোগ করে জানান, শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজের নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা মামলা করতে ভয় পাচ্ছি।
আহত খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বাম হাতে আঘাত পেয়েছি, ভেঙে গেছে। মামলা করলে আরও সমস্যা হবে, তাই মামলা করব না।’
তবে বিএনপির শ্রীপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে সামান্য চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে আমি চেয়ারম্যানের ভোট করার সময় আমাকে বিরক্ত করা হয়েছিল। তবে এটি বড় কোনো ঘটনা নয়, আমি এলাকা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় মুহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সাদোপাড়া ডাকঘরের সামনে এলে একই গ্রামের বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হক, আরিফুল ইসলামসহ চার থেকে পাঁচজন মুহিদুল ইসলামের পথ আটকান। বিএনপির কর্মীরা তার বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন এবং কেন তিনি আওয়ামী লীগের লোকজনকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন, তা জানতে চান। মুহিদুল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তখন বিএনপির কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন এবং একপর্যায়ে লাঠি ও রড নিয়ে তার ওপর আক্রমণ করেন। চিৎকার শুনে তার দুই ভাতিজা খায়রুল ইসলাম (২৩) ও রাতুল ইসলাম (১৭) ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এই সময় তাদেরও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যান। স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে ওই তিনজনকে উদ্ধার করে তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার পর তারা বাড়ি ফিরে আসেন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। থানায় কোনো মামলা হয়নি।
মন্তব্য করুন