পাবনা-৫ আসন
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৫ (সদর উপজেলা) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কোনো পক্ষই এখনো নিশ্চিত জয়ের নিশ্চয়তায় নেই। বরং ব্যস্ত নিজ নিজ কৌশল সাজানো ও পালটা কৌশল মোকাবিলায়। ৪৩৯ বর্গকিলোমিটারব্যাপী ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাবনা সদর-৫, নির্বাচনি এলাকা-৭২। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৯৮ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৫ জন আর তৃতীয় লিঙ্গ তিন জন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট নতুন বা তরুণদের ভোট।
এ আসনের গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সবখানেই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয় নির্বাচন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সভাসমাবেশ, উঠান বৈঠক ও ঘরোয়া মতবিনিময়। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। শুনছেন মানুষের প্রত্যাশা ও অভিযোগ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হুসাইন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হোসাইন (হাতপাখা) ও এ বি পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মজিদ মোল্লা (ঈগল)।
তথ্য বলছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এর আগে ২০০১ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সোবহান নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল ছাড়া এ আসনে বিএনপির কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ২০০০ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ডা. মাজহার আলী কাদেরী নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগ না থাকায় এ আসনে এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিএনপি ও জামায়াত। ফলে আগামী নির্বাচনে এই দুই দলের মধ্যেই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ভোটাররা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা। অনেক ভোটার বলছেন, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সংকটে পাশে থাকার ভূমিকা এবার বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথম বারের ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা নিচ্ছেন আলাদা কৌশল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। ভিডিও বার্তা, পোস্টার, স্লোগান ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন