ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে? - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে?

দাভোস অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এই বোর্ডটি গাজা উপত্যকায় শান্তি স্থাপন ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, এর অন্তরালে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং জাতিসংঘকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা দেখছেন অনেক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রপ্রধান।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ট্রাম্প আজীবনের জন্য এর চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকবেন, যা তার প্রেসিডেন্সি পরবর্তী সময়েও তাকে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে টিকিয়ে রাখবে।

এই শান্তি বোর্ডের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো এর সদস্যপদ লাভের আর্থিক শর্ত এবং এককেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো। স্থায়ী সদস্যপদ পেতে দেশগুলোকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলার ফি প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে ‘পে-টু-প্লে’ বা অর্থের বিনিময়ে ক্ষমতা কেনার অভিযোগ উঠেছে।

অনেক দেশ এই বিপুল পরিমাণ অর্থকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। ফরাসি ও জার্মান কর্মকর্তাদের মতে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মতো একটি সর্বজনীন সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের একটি বেসরকারী বা ব্যক্তিগত ধাঁচের কাঠামো তৈরি করা আন্তর্জাতিক আইনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার সমান হতে পারে।

বোর্ডের নির্বাহী পরিষদে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো বিতর্কিত ও প্রভাবশালী নামগুলো এই উদ্যোগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সমালোচকদের মতে, এটি জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে একটি ‘ট্রাম্প জাতিসংঘ’ গড়ার প্রচেষ্টা, যেখানে ট্রাম্পের হাতে থাকবে একক ভেটো ক্ষমতা। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা মিত্ররা ইতিমধ্যেই এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই বোর্ডটি শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করে একটি মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত কাঠামোয় রূপ নেবে।

বিশ্বজুড়ে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিন ধরনের মেরুকরণ দেখা গেছে। একদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এতে যোগ দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে ও সুইডেন এই প্রক্রিয়াকে জাতিসংঘের নীতিমালা বিরোধী আখ্যা দিয়ে এর থেকে দূরে থাকছে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এই বোর্ডটি বৈশ্বিক বিরোধ মীমাংসায় একটি সাহসী ও নতুন পথ দেখাবে, তবে সমালোচকরা একে বিশ্বব্যবস্থার অখণ্ডতা নষ্ট করার একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবেই চিহ্নিত করছেন।

সূত্র: পার্স টুডে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১০

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১১

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১২

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৩

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৪

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৫

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৬

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৭

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৮

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

১৯

পশ্চিমবঙ্গে কোরবানি ঈদের ছুটি কমিয়ে ১ দিন করল শুভেন্দুর সরকার

২০