রাজধানীর উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে গত ছয় মাসে দেহে ৩৫টি অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফিরেছে আবিদুর রহিম (১২)। সে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাসায় শিশুটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আবিদুরের সঙ্গে দেখা করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
‘রাজধানীর উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে গত ছয় মাসে দেহে ৩৫টি অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফিরেছে আবিদুর রহিম (১২)। সে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওর নামও আবিদ। বয়স মাত্র ১১ বছর। এত ছোট্ট বয়সে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে ওকে যেতে হয়েছে তা কল্পনা করলেও গায়ে কাঁটা দেয়। মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে মারাত্মকভাবে আহত হবার ১৮৩ দিন পর গতকাল হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরে আবিদ। এই ১৮৩ দিনের মধ্যে ওর ৩৫ বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, ১০ বার স্কিন ড্রাফ্ট (চামড়া সংযোজন), ২৩ বার (ফ্যাসিওটমি) অঙ্গ-সংরক্ষণকারী অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম করা হয়। এর মধ্যে আইসিইউতে রাখতে হয়েছে ৫ দিন, এইচডিইউতে ৬ দিন ও বাকি সময়টুকু (১৭২ দিন) রাখা হয়েছে কেবিনে।
আমি আজ আবিদের সাক্ষাতে গেলাম। ওকে সালাম দিয়ে বললাম আমার নামও আবিদ। কেমন আছো? সে বললো, ভাইয়া তোমাকে চিনি, আমি হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ফোনে তোমাকে দেখেছি। ওকে দেখে এসে নিজের মধ্যে একটা শক্তি পেলাম। সবকিছু সয়ে গিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে বড় আর কোনো লড়াই এ পৃথিবীতে নেই। আবিদ আমাদের সাহস। এত ভয়ংকর অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সহ্য করে আবিদ যদি লড়াই চালিয়ে যেতে পারে তাহলে আমরাও পারবো।
মহান আল্লাহ তায়ালা আবিদের ট্রমা কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিক। বাংলাদেশে আর কখনো এমন কোনো ভয়াল দিন ফিরে না আসুক!
মন্তব্য করুন