পাকিস্তানে ব্যাংক-থানা দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষে নিহত ১২ - সমকন্ঠ
রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানে ব্যাংক-থানা দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষে নিহত ১২

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানের খারান শহরে সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় চালানো একাধিক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে অন্তত ১২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত-পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী খারান শহরে একযোগে হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ব্যাংক দুটি থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করে। তারা পুলিশ স্টেশনে জিম্মি নেওয়ারও চেষ্টা চালায়, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর অভিযানে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

আইএসপিআর জানায়, খারান ও আশপাশের এলাকায় ক্লিন-আপ বা মপ-আপ অভিযান চলছে চলমান রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

পাকিস্তান সরকার বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত একটি বিস্তৃত হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিশেষ করে বেলুচিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি স্থানে প্রাথমিক সংঘর্ষেই চার সন্ত্রাসী নিহত হয়, পরে অন্যদেরও বিভিন্ন অভিযানে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে সন্ত্রাসীরা আদর্শিক তৎপরতার পাশাপাশি এখন সংগঠিত অপরাধ যেমন- ব্যাংক ডাকাতির দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, ‘ওরা রাস্তায় নামলে পরাজিত হবে, আর লুকিয়ে থাকলে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে খুঁজে বের করা হবে।’

মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাঙ্গানের মতো কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ফোরজি নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন, যার আওতায় বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হবে, পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে নজরদারিও বজায় রাখা হবে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো এলো দেশে

ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে চাকরি গেল ভারতের ৮০ কর্মীর!

এসএসসি পেরিয়েই ঝরে পড়ল দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

১০

নির্বাচন কমিশন গঠন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

১১

স্থানীয় ভোট নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক দুপুরে

১২

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

১৪

গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

১৫

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১৬

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

১৭

পুলিশ ও গণমাধ্যম পরস্পরের বন্ধু: ডিএমপি কমিশনার

১৮

সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান

১৯

সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব

২০