ইরানে বর্তমানে অন্তত ৬০ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি। তিনি উল্লেখ করেছেন, চলতি বছরে ইতোমধ্যে ১৫ লাখেরও বেশি অভিবাসী আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন। খবর এএনআই’র।
এ ছাড়া ইরানের এই নেতা দেশটির গণমাধ্যমে জানান, যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ লাখ বিদেশি নাগরিক তেহরানে ফেরত এসেছেন।
মোমেনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আফগানদের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক থাকলেও আমাদের অভিবাসী ধারণক্ষমতা এখন সীমিত। তার দাবি, ফিরিয়ে দেওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফিরেছেন।
তবে বাস্তব চিত্র অনেকেই ভিন্ন বলে দাবি করছেন। ইরান ও পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান নাগরিকরা বলছেন, কঠোর নীতি, চাকরিতে বাধা, বিভিন্ন সেবা বন্ধ এবং হঠাৎ দেশ ছাড়া করার কারণে তাদের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
ইরানে অবস্থানরত আফগান নাগরিক মরতেজা নাজারি জানান, ইরান সরকার ঘোষণা দিয়েছে অভিবাসীদের কোনো কাজ দেওয়া যাবে না। আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না। ব্যাংক কার্ড, সিম কার্ড—সবই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আফগান শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, এই কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে আটক অবস্থায় থাকা দুই হাজারের বেশি আফগানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
টোলো টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকে এক মাসেরও কম সময়ে মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৭ জন আফগান নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে- যা আগের পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি উদ্বেগজনক।
আফগান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুলমুতালিব হাক্কানি জানান, এই তিন দেশ থেকে ৮৩ হাজার ১৩৫ জন অবিবাহিত পুরুষ পরিবার ছাড়া দেশে ফিরেছেন, এবং পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৬ জন বন্দি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সতর্ক করেছে, ইরান থেকে ফেরত পাঠানো আফগানদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে—এটি এমন পরিস্থিতির মধ্যে হচ্ছে যখন আন্তর্জাতিক সাহায্যও কমে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন