অমর একুশে গ্রন্থমেলা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু এবং স্টলভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে শাহবাগ চত্বরে এক সমাবেশ শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ দুই দফায় মিছিলটি কাটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। পরে পুলিশের একটি ভ্যানে করে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় তেজগাঁয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার এপিএস সাব্বির আহমেদ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লাল্টু এবং সঞ্চালনা করেন প্রকাশক নেতা কবি দেলোয়ার হাসান। এতে বক্তব্য দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সম্পাদক অধ্যাপক শহীদ আজাদ, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, উদিচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, সমাজচিন্তা ফোরামের কামাল হোসেন বাদল, ভাসানী পরিষদের হারুন অর রশিদ, নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দীপা খন্দকার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পাদক জাকির হোসেন এবং কবি কৌমুদী নার্গিস প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। একবার বলা হচ্ছে ডিসেম্বর মাসে মেলা হবে, আবার বলা হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে হবে—কিন্তু তা নির্বাচনের আগে না পরে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই।
তারা আরও বলেন, একুশের বইমেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। তাই নিরাপত্তার অজুহাতে মেলা পেছানো যুক্তিযুক্ত নয়।
বক্তারা জানান, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন, রাষ্ট্র ও সরকারের স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। তাই আমরা চাই অমর একুশের বইমেলা যথারীতি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হোক এবং প্রকাশকদের স্টলভাড়া ৫০ শতাংশ কমানো হোক। সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে, তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব এবং প্রয়োজনে অন্যত্র মেলার আয়োজন করব।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে একুশে বইমেলার ভূমিকা অপরিসীম। এই মেলা লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পকে গতিশীল রাখে। নির্বাচনের অজুহাতে এর সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ বইমেলায় মানুষের অংশগ্রহণ নির্বাচনের পরিবেশে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সরকার ও বাংলা একাডেমি বইমেলা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা প্রশাসনিক দোদুল্যমানতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রধান হিসাবে আপনি দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবেন এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই অমর একুশে বইমেলা আয়োজন ও স্টলভাড়া অর্ধেকে কমানোর নির্দেশ দেবেন।
মন্তব্য করুন