মায়ের সঙ্গে কারাগারে ১১ দিনের শিশু - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মায়ের সঙ্গে কারাগারে ১১ দিনের শিশু

সাত দিন ধরে নগরের একটি হাসপাতালের কক্ষে মায়ের সঙ্গে বন্দি ছিল ১১ দিনের শিশু। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) মায়ের সঙ্গে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে গ্রেফতার শাহজাদীকে খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে উত্থাপন করা হয়। আদালতে শাহজাদীর পক্ষে কেউ জামিন আবেদন করেননি। ছিলেন না কোনো আইনজীবী। তাই কোনো শুনানিও হয়নি।

আদালত শাহজাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাইরে শিশুটিকে দেখাশোনা করার কেউ না থাকায় শাহজাদীর সঙ্গে তাকেও খুলনা জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরীর রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ফকিরহাটের মেয়ে শাহাজাদীর (৩৬) কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। তাদের ঘরে আগে চার কন্যা সন্তান আছে। এবার ছেলে হবে— এমন প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালেই ফেলে চলে যান সিরাজুল। এরপর আর খবর নেননি। পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর ঘটে অঘটন। একই হাসপাতাল থেকে আরেক প্রসূতির চার দিন বয়সী ছেলে নবজাতক চুরি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধারও করা হয়। শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। তখন আটক হন তিনি।

এ ঘটনায় শাহজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নার্গিস বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৬ দিন ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। শাহজাদী একটি কক্ষে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশের কাছে দাবি করেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে এমনটা করেছিলেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক এনামুল হক জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর শিশুর বাবা ও মামা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ছেলে সন্তান হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পরদিন সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়। এরপর থেকে বাবা সিরাজুল ইসলাম আর হাসপাতালে আসেননি।

তিনি বলেন, রোববার ছাড়পত্রের দিনও শিশুর বাবা ও মামা হাসপাতালে আসেনি। দূর সম্পর্কের এক ভাই শাহজাদীর বিল পরিশোধ করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানা পুলিশের এসআই শাহীন কবির জানান, আসামি সুস্থ হয়ে যাওয়ায় আইন মেনে তাকে আদালতে উত্থাপন করা হয়। আদালত কী আদেশ দিয়েছেন আমার জানা নেই।

খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে কর্মরত প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস (জিআরও-সদর) জানান, আদালতে শাহজাদীর পক্ষে কোনো আইনজীবীকে দেখা যায়নি। কেউ জামিন আবেদনও করেননি। নিয়ম অনুযায়ী আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটির বিষয়টি পৃথকভাবে কেউ আদালতকে উত্থাপন করেনি। প্রথা অনুযায়ী মানবিক বিবেচনায় তাকে মায়ের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১১

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১২

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১৩

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৪

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৫

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৬

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৭

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৮

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৯

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

২০