প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে মামদানির ঐতিহাসিক অভিষেক আজ - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে মামদানির ঐতিহাসিক অভিষেক আজ

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন জোহরান মামদানি।

নতুন বছরের প্রথম প্রহরে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ৮০ লাখ বাসিন্দার এই নগরীর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলো। ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

আজ বিকেলেই তার এই ঐতিহাসিক অভিষেক উপলক্ষে বিশেষ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার এই অভিষেক ঘিরে নিউ ইয়র্কবাসীর মধ্যে একদিকে যেমন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে তার আমূল পরিবর্তনকামী নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।

নিউ ইয়র্কের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, নবনির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে যেন কোনো প্রশাসনিক অস্পষ্টতা তৈরি না হয়, সেজন্য নির্বাচনের পরবর্তী ১ জানুয়ারি মধ্যরাতেই শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। জোহরান মামদানি তার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিয়েছেন গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনকে, যা বর্তমানে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মামদানির ট্রানজিশন টিম জানিয়েছে, এই ভূগর্ভস্থ স্টেশনটি বেছে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো নিউ ইয়র্ক শহরকে প্রতিদিন সচল রাখা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রতি মেয়রের গভীর প্রতিশ্রুতি ও একাত্মতা প্রকাশ করা। আজ থেকেই তিনি তার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন।

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের সাবেক এই আইনপ্রণেতা তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু সাহসী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা, নগরীর সব বাসিন্দার জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করা এবং সার্বজনীন চাইল্ডকেয়ার বা শিশু যত্ন সুবিধা নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামদানির এই জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি সফল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে বিশাল বাজেটের এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে তার মেয়াদের প্রথম ও প্রধান পরীক্ষা।

জোহরান মামদানির এই জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং ধনবৈষম্য দূর করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা নিউ ইয়র্কের মতো একটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে কতটা সফল হয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

তার শাসনামলে অভিবাসী অধিকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে কোনো নতুন পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১০

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১১

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১২

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৩

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৪

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৫

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৬

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৭

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৮

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

১৯

পশ্চিমবঙ্গে কোরবানি ঈদের ছুটি কমিয়ে ১ দিন করল শুভেন্দুর সরকার

২০