প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়- কাতার - সমকন্ঠ
রবিবার , ৩১ মে ২০২৬
সমকন্ঠ
১১ মার্চ ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়- কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে কাতার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়। কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বুধবার (১১ মার্চ) আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্তমান বৈরী পরিবেশ নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে তাতে ‘কারও কোনো কল্যাণ হবে না’। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ ওই অঞ্চলের জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল-খুলাইফি কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই দেশগুলো আগে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ‘সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা’ এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো দেশই আক্রান্ত অবস্থায় এই ভূমিকা পালন করতে পারবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কাতার তার সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো অন্যায্য হামলার বিরুদ্ধে আইনি ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। কয়েক দিন আগে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির আশানুরূপ পরিবর্তন দেখা যায়নি।

কাতারের এই প্রতিমন্ত্রী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংঘাতের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আল-খুলাইফি বলেন যে, একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই এবং চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

দোহা বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শত্রুতা পরিহার করে শান্তির পথে হাঁটার অনুরোধ জানিয়েছে। কাতার আশা করছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিবাদ নিরসনে একমত হবে।

আল-খুলাইফি পুনরুক্তি করেন, ইরানকে এটা বুঝতে হবে যে আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। যুদ্ধকালীন উত্তজনা প্রশমিত না হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে বলে কাতার সতর্ক করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- রেলমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ২৮

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিশ্বে ১২০ কোটি মানুষ ভুগছে মানসিক সমস্যায়

‘গোপন অস্ত্র উন্মোচন’ কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল রাশিয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

স্ত্রীসহ সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিল সরকার

১০

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

১১

রাতের মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

১২

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল যাত্রীর

১৩

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর আসছে- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কো রুবিওর আভাস

১৪

ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা ডিএমপির

১৫

মোদি-রুবিওর বৈঠক- হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

১৬

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অবস্থান

১৭

ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের

১৮

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের

১৯

পশ্চিমবঙ্গে কোরবানি ঈদের ছুটি কমিয়ে ১ দিন করল শুভেন্দুর সরকার

২০