টাইটানিক ট্র্যাজেডি ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনার মধ্যে একটি। ১৯১২ সালের এপ্রিল মাসে মহাসাগরের বরফখণ্ডে আঘাতের পর সঙ্কটাপন্ন জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা এখনও স্মৃতির পাতায় অমর। এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে স্মরণীয় যুগল ছিলেন ইসিডোর এবং ইডা স্ট্রাউস- তারা ছিলেন জাহাজের প্রথম শ্রেণীর যাত্রী। ফলে জীবন বাঁচানোর সুযোগ থাকলেও একে অপরের পাশে থাকার জন্য সেই সুযোগ ত্যাগ করেছিলেন।
জেমস ক্যামেরনের ১৯৯৭ সালের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘টাইটানিকে’ এই দম্পতিকে দেখা যায়, যখন তাদের একজনকে লাইফবোটে উঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারা আলাদা হতে অস্বীকার করেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে ছিলেন। বাস্তব ঘটনা অনুযায়ী, বেঁচে থাকা যাত্রীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, দম্পতিকে জাহাজের ডেকে হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, এরপর ঢেউয়ের স্রোতে তারা হারিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রেরে নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘ম্যাসি’স’-এর সহ-মালিক ইসিডোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তার স্ত্রী ইডার মরদেহ আর কখনও পাওয়া যায়নি। তবে ইসিডোরের পোশাকের পকেট থেকে একটি সোনার পকেট ঘড়ি উদ্ধার করা হয়। এটি পরবর্তীতে দম্পতির ছেলে জেসির কাছে ফেরত দেওয়া হয় এবং ইডার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কের উডলন কবরস্থানে ইসিডোরের সমাধির পাশে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়।
সম্প্রতি এই পকেট ঘড়িটি নিলামে উঠেছে। ব্রিটিশ নিলাম সংস্থা হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন জানিয়েছে, শনিবার নিলামে ঘড়িটির দাম প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত উঠতে পারে। ঘড়িটিতে খোদাই করা রয়েছে ইসিডোরের নামের আদ্যক্ষর এবং ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৮-এর তারিখ, যা তার জন্মদিন এবং সেই বছর তিনি ও তার ভাই নাথান ম্যাসি’স স্টোরের পূর্ণ অংশীদার হয়েছিলেন। নিলাম সংস্থা ঘড়িটিকে ‘বিক্রয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী টাইটানিকের জিনিসগুলোর মধ্যে একটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিক্রির আগে এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিবারের কাছেই সংরক্ষিত ছিল।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংরক্ষণাগারের নথি অনুযায়ী, স্ট্রাউস দম্পতিকে লাইফবোটে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যদিও অল্পবয়সী পুরুষদের সেখানে উঠে যাওয়া অনুমোদিত ছিল, ইসিডোর তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার স্ত্রী ইডাও বলেছিলেন, তুমি যেখানে যাবে, আমিও সেখানে যাবো।’ এই দৃঢ়তা ও প্রেমের গল্প আজও টাইটানিকের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে, যা মানবিকতা, ভালোবাসা এবং সাহসিকতার অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মন্তব্য করুন