জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাকসু নির্বাচন কমিশন। তালিকায় ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না কোনো নারী শিক্ষার্থী। জিএস পদে মাত্র ২ জন নারী শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করে জাকসু নির্বাচন কমিশন।
তালিকায় দেখা যায়- সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন ২০ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়বেন ১৭ জন প্রার্থী। তবে সহ-সভাপতি পদে ২০ জনের মধ্যে নেই কোনো নারী প্রার্থীর নাম। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৭ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ২ জন নারী প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ২৭৬ শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫৬ জনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০ টি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে আপত্তি ও প্রত্যাহারের সময়সীমা রাখা হয়েছিল।
ভিপি পদপ্রার্থী হিসেবে তালিকায় রয়েছেন মো. শেখ সাদী হাসান (বাংলা বিভাগ), আরিফুল ইসলাম (রসায়ন বিভাগ), হামিদুল্লাহ সালমান (ইংরেজি বিভাগ), রাব্বি হোসেন (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ), আরিফুজ্জামান (মার্কেটিং বিভাগ), আব্দুর রশিদ (তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ), সোহানুর রহমান (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), আরিফ উল্লাহ (ফার্মেসী বিভাগ), মো. নাঈম খন্দকার (নৃবিজ্ঞান বিভাগ), অমর্ত্য রায় জন (প্রত্নতত্ত্ব), মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (বায়োটেকনোলজি বিভাগ), মো. সুয়াইব হাসান (নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ), মো. সাফায়েত মীর (গণিত বিভাগ), মো. রাব্বি হোসেন (সরকার ও রাজনীতি), মো. মামুন মিয়া (ইংরেজি), মো. আব্দুল মান্নান (নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ), জাকিরুল ইসলাম (রসায়ন বিভাগ), মো. মাহফুজুল ইসলাম (পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ), মো. রাসেল আকন্দ (দর্শন বিভাগ), শরীফ মুহাম্মদ (দর্শন বিভাগ)।
জিএস পদপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন- আবু রায়হান কবির রাসেল (বাংলা), মো. মাজহারুল ইসলাম (ইংরেজি), মোহাম্মদ রুবেল (জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ), সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া (আইন ও বিচার ), শরণ এহসান (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), মো. তাওহীদুর রহমান খান (অর্থনীতি), আরশাদ হাবিব বিশাল (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), মেহেদী হাসান (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), শাফায়েত মীর (গণিত), জহিরুল ইসলাম (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক), মো. সাজ্জাদুল ইসলাম (ভূগোল ও পরিবেশ), তানজিলা হোসাইন বৈশাখী (সরকার ও রাজনীতি), মো. শাকিল আলী (ইতিহাস), মো. শেখ সাদী হাসান (বাংলা), জাহিদুল ইসলাম (উদ্ভিদবিজ্ঞান), আবু তৌহিদ মো. সিয়াম (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক), মোহাম্মদ তানভীর হাসান (নৃবিজ্ঞান)।
এ ছাড়াও নারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৯টি, পুরুষ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২১টি, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ১৩টি, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ১৩টি, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯টি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ৯টি, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১১টি, নাট্য সম্পাদক পদে ৭টি, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৫টি, নারী সহ ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৬টি, পুরুষ সহ ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৬টি, তথ্য ও প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে ১৪টি, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ১৪টি, নারী সহ সমাজসেবা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫টি, পুরুষ সমাজসেবা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯টি, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক ১২টি, পরিবহণ ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে ৭টি, নারী কার্যকরী সদস্য পদে ১৭টি এবং পুরুষ কার্যকরী সম্পাদক পদে ৩২টি মনোনয়নপত্র খসড়া প্রার্থী তালিকায় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচনের সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, জাকসু নির্বাচনের কার্যক্রম নিরলস ভাবে করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে প্রার্থীদের আবেদন পড়েছিল ২৭৬টি। এর মধ্যে পরীক্ষা শেষ হওয়া, আবেদন ফরমে অসম্পূর্ণ তথ্য ইত্যাদি কারণে ২০ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা অনেকেই আপিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সদা তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মনোনয়ন বাতিলের বিপক্ষে ১৪ জনের আপিল এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ আপিলের সময় ছিল। এতে মনোনয়ন বাতিলের বিপক্ষে ১৪ জন আপিল করেন বলে জানিয়েছেন জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য-সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ২৭৬ মনোনয়নের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে বাদ পড়ে ২০টি, বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন। আর বৈধ হয়েছে ২৫৬ জন। ২৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর আগামী ২৯ আগস্ট নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে জাকসু নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ প্যানেল ঘোষণা করলেও এখনো ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলো প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি। আর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জাকসু নির্বাচন কমিশনের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়। তবে, এখন পর্যন্ত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বহিরাগত প্রবেশ। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন