কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ত্রাণ কার্যক্রম এর আওতায় কুমারখালীর ১৮ টি মন্দিরে সরকারের দেয়া বিশেষ বরাদ্দের ৫০০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও বটকৃষ্ণ পাল, রামদাস সরকার, ঘন ও সুজিত নামের চারজন ব্যক্তি কুমারখালী উপজেলার মধ্যথেকে কোনো মন্দিরে ৯ হাজার, কোনো মন্দিরে ৮৫০০ টাকা দেয় ও কয়েকটি মন্দিরে কিছুই না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ত্রাণ কার্যক্রম এর আওতায় ১৮টি পূজা মন্দিরের জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। হোগলা ঘোষপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরের সভাপতি আনন্দ কুমার বিশ্বাস জানান, পূজা উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ বরাদ্দের ৫০০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বটকৃষ্ণ পাল বিভিন্ন মন্দিরে দিতে হবে বলে আমাকে ৯ হাজার টাকা দেয় ও আমার থেকে ডিও পেপার নিয়ে নেয়।
কয়া পালপাড়া সর্বজনীন দূর্গা মন্দিরের সভাপতি শ্রীবাস ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক গোপী পাল জানান, অষ্টমী পূজার দিন বটকৃষ্ণ পাল আমাদের কল দিয়ে কুমারখালী উপজেলায় ঢেকে নিয়ে একটি কাগজে সই করিয়ে ৮৫০০ টাকা দেয় ও বলে এটা আমাদের ব্যক্তিগত বরাদ্দ। কল্যানপুর দাসপাড়া সর্বজনীন দূর্গা মন্দিরের সভাপতি খোকন দাস জানান, প্রথম পর্যায়ের চাল পেয়েছি, বিশেষ বরাদ্দের ৫০০ কেজি চাল পায়নি। পরবর্তী বিষয়টি জানাজানি হলে বটকৃষ্ণ পাল ৫০০০ টাকা দিয়েছে। সরর্দার পাড়া সার্বজনীন রক্ষা কালী দূর্গা মন্দিরের সভাপতি তপন সরদার জানান, বিশেষ বরাদ্দের ৫০০ কেজি চালের ডিও পেপার পিআইও অফিস থেকে সই দিয়ার পরে বটকৃষ্ণ পাল, রামদাস সরকার ও ঘন মিলে আমার থেকে ডিও পেপার নিয়ে আমাকে ৯ হাজার টাকা দিয়েছে। বটকৃষ্ণ পাল ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে। রাম দাস সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও চাল/টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ঘন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ও বটকৃষ্ণ পাল তাকে কিছু খরচ দিয়েছে বলেন। সুজিত ঘটনাদিন থাকলেও অর্থের বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না বলেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমারখালী উপজেলা শাখার সভাপতি চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শংকর মজুমদার বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি এবং ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতি – সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বললে জানা যায় তাদের মন্দিরের টাকা এটা বড় অংশ তারা আত্মসাৎ করেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য তাপস কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং ঘটনা সত্যতা পেয়েছি। আমি তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তিনি আরো বলেন, দোষী যত বড়ই হোক না কেন পূজা মন্দিরের টাকা আত্মসাৎ কারীদের কোন ছাড় হবে না।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি এবং সত্যতা আছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফন্ট কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. পিকে সাহা বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি ও সত্যতা পেয়েছি। যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের আহ্বান জানান তিনি। এমন ঘটনায় কুষ্টিয়া হিন্দু সম্প্রদায় সহ জন মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী টাকা এভাবে আত্মসাৎ করাটা দুঃখজনক! ধর্মীয় ব্যাপারে এমনটা কাম্য নয়। ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভুগী মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারন সম্পাদক ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন