উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘সঠিক পক্ষে’ থাকার আহ্বান মোজতবা খামেনির - সমকন্ঠ
বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১০ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘সঠিক পক্ষে’ থাকার আহ্বান মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এক্সে পোস্ট করার পর এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইরান তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের এই বার্তা দিচ্ছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ।

বার্তা সংস্থা সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন বাহরাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো হাসান আল হাসান।

তিনি বলেন, ইরানের এই বার্তা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি একটি কৌশলগত ইঙ্গিত, যেখানে তারা বোঝাতে চাচ্ছে যে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে।

খামেনির ওই পোস্টে বলা হয়, ‘ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের বলছি, আপনারা এক অলৌকিক ঘটনা দেখছেন।’

আরও বলা হয়, তাই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করুন, সঠিক পক্ষে অবস্থান নিন এবং ‘শয়তানদের’ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত চাপের মুখেও তেহরানের টিকে থাকাকেই এখানে ‘অলৌকিক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আলহাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক হামলা সামলে নিয়ে ইরান এখন নিজেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে।

তিনি সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণ প্রতিহত করা, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার পর তেহরান এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা এই অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে।

খামেনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এখন একটি ‘যথাযথ সাড়া’ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা তাদের ‘ভ্রাতৃত্ব এবং সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করতে পারে।

তিনি লিখেছেন, এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না আপনারা সেই সব ‘অহংকারী শক্তিগুলোকে’ বর্জন করছেন, যারা আপনাদের অপমান এবং শোষণ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না।

তবে আল হাসান মনে করেন, সংঘাত চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলো খামেনির এই আহ্বানকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখেই দেখবে।

আল হাসান আরও বলেন, ‘যুদ্ধের চরম মুহূর্তেও আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিল। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, তারা ইরানের খবরদারি বা অভিভাবকত্ব মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি

ইসরায়েলি বসতির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের ১২ দেশের সমর্থন

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবে আহত ৭৩

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

১০

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

১১

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

১২

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

১৩

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

১৪

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১৫

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

১৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

১৭

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

১৮

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১৯

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

২০