ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই - সমকন্ঠ
বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার কৌশল নেই বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি।

সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সমালোচনা করেন।

কেলি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ (নো কোয়ার্টার) এবং প্রেসিডেন্টের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে এই যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পরিকল্পনা শুরু থেকেই ছিল না। সিনেটরের মতে, প্রশাসন এখন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্দেশ্য তৈরি করছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে মার্কিন সেনাদের এবং সাধারণ আমেরিকানদের।

সিনেটর মার্ক কেলি মূলত প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের গত সপ্তাহের একটি বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে এবং শত্রুদের কোনো প্রকার ক্ষমা বা দয়া প্রদর্শন করা হবে না।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, হেগসেথের ব্যবহৃত ‘নো কোয়ার্টার’ বা কাউকে জীবিত না রাখার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের ঘোষণা দেওয়াকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা আহত বা আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক যোদ্ধাদের ওপর হামলার সমতুল্য।

কেলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও প্রশাসন এখনও তাদের লক্ষ্য নিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে মার্কিন সেনাদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ আমেরিকানদের তেলের পাম্পে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে।

পৃথক আরেকটি পোস্টে তিনি জানান যে, তিনি প্রতিরক্ষা সচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ‘নো কোয়ার্টার’ শব্দটির মাধ্যমে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন তার ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। কেলির মতে, সামরিক আইনের ইতিহাসে এই শব্দটির অর্থ হলো কোনো শত্রুকে বন্দি না করে সরাসরি হত্যা করা, যা জেনেভা ও হেগ কনভেনশন অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় যুদ্ধাপরাধ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। কেলি মনে করিয়ে দেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের নিজস্ব ম্যানুয়ালেও ‘কাউকে জীবিত না রাখার ঘোষণা দেওয়া নিষিদ্ধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই অদূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি

ইসরায়েলি বসতির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের ১২ দেশের সমর্থন

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবে আহত ৭৩

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

১০

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

১১

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

১২

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

১৩

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

১৪

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১৫

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

১৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

১৭

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

১৮

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১৯

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

২০