ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা একটি ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’ প্রক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি এই পোস্ট করেন।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গত জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং এখন সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো খুঁড়ে বের করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং গত বছরের হামলার পর অবশিষ্ট পারমাণবিক উপাদানগুলোকে ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ বা নিউক্লিয়ার ডাস্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে পিটার বিউমন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
মার্কিন বোমা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ এলাকার পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের স্যাটেলাইট চিত্রেও হামলার পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট দেখা গেছে।
নিজের পোস্টে গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প ‘ফেক নিউজ’ সিএনএন এবং অন্যান্য দুর্নীতিগ্রস্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই অভিযানে অংশ নেওয়া মহান বৈমানিকদের যথাযথ কৃতিত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা সবসময় এই সাফল্যকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে।
ট্রাম্প তার বিরোধীদের এবং সমালোচনাকারী মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘পরাজিত’ বা লুজার বলে সম্বোধন করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের হাতে থাকা এই পারমাণবিক উপাদানগুলো।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে, যদিও তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের এই অমীমাংসিত বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বললেও ওয়াশিংটন চাচ্ছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন