মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য স্থল অভিযান ইরানের জন্য ‘বিরাট বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে তেহরান যে দাবি করেছে, তাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের এই ধরনের হুঙ্কার দেওয়া কেবলই ‘সময়ের অপচয়’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান ইতিমধ্যে তাদের সক্ষমতার সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘তারা তাদের নৌবাহিনীসহ যা যা হারানোর মতো ছিল, তার সবই খুইয়েছে।’ মূলত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির করা মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার একই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি স্থল পথে ইরানে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তা হবে তাদের জন্য একটি চরম বিপর্যয়।
আরাঘচি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছিলেন, ইরান যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং তারা মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে। আরাঘচির এই সরাসরি চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প পাল্টা দাবি করলেন, ইরানের সামরিক শক্তি এখন এতটাই বিপর্যস্ত যে তাদের প্রতিরোধের সক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।
এনবিসি-র সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। যদিও তিনি সম্ভাব্য কোনো নেতার নাম নির্দিষ্ট করে প্রকাশ করতে রাজি হননি, তবে তার সুর ছিল বেশ আক্রমণাত্মক।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে প্রবেশ করে সবকিছু পরিষ্কার করে ফেলতে চাই।’ তিনি আরও যোগ করেন, তিনি এমন কাউকে ইরানের নেতৃত্বে দেখতে চান না যারা আগামী ১০ বছর ধরে দেশটিকে আবার পুরোনো অবস্থায় পুনর্গঠন করবে। বরং তিনি এমন এক নেতৃত্ব চান যারা দ্রুত পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি কেবল ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হতে চান না, বরং দেশটিতে একটি আমূল রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে ইচ্ছুক। তিনি দাবি করেন যে, তার নজরে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করতে পারবেন।
মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাব এবং স্থল অভিযানের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে এক নতুন এবং অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বাগযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন