ইরানি নেতাদের হত্যা করা ‘খুবই সম্মানজনক’ কাজ- ট্রাম্প - সমকন্ঠ
বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৩ মার্চ ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরানি নেতাদের হত্যা করা ‘খুবই সম্মানজনক’ কাজ- ট্রাম্প

ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করাকে ‘খুবই সম্মানজনক’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার পথে রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী ইতিমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে এবং তাদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিসহ অন্যান্য সমরাস্ত্রের মজুদও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতেই এই আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।

ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা বার্তায় ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অতুলনীয় সমরাস্ত্র এবং সীমাহীন গোলাবারুদ নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করছে এবং তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময়ও রয়েছে।

তিনি ইরানের সরকারকে একটি ‘উন্মাদ গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তারা নিজ দেশ ও বহির্বিশ্বে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এখন সেই শাসনের অবসান ঘটাচ্ছেন এবং একে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক দায়িত্ব বলে মনে করেন। ট্রাম্পের এই কড়া ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী দীর্ঘ সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে।

একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই আকাশপথে ভয়াবহ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা এই সংঘাতকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।

বর্তমানে ইরান এই হামলার জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মতো দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবস্থানগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট দেশের সরকারকে সমূলে বিনাশ করার এমন প্রকাশ্য ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে অনেকে মনে করছেন।

সূত্র: এএফপি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি

ইসরায়েলি বসতির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের ১২ দেশের সমর্থন

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবে আহত ৭৩

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

১০

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

১১

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

১২

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

১৩

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

১৪

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১৫

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

১৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

১৭

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

১৮

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১৯

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

২০