অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় কাশ্মীরে কলেজ বন্ধ করলো ভারত - সমকন্ঠ
রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় কাশ্মীরে কলেজ বন্ধ করলো ভারত

ভারত শাসিত কাশ্মীরে একটি প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজে সিংহভাগ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জেরে কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের (এসএমভিডিএমআই) স্বীকৃতি বাতিল করে।

নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই কলেজের প্রথম ব্যাচের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম, সাতজন হিন্দু এবং একজন শিখ। একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এই কলেজে মুসলিমদের আধিক্য মেনে নিতে না পেরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামলে সরকার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর দাবি ছিল, যেহেতু কলেজটি বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের ভক্তদের দানে প্রাপ্ত অর্থে পরিচালিত হয়, তাই এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পড়ার কোনো অধিকার নেই। নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মুখে স্থানীয় বিজেপি নেতারাও উপরাজ্যপালের কাছে আবেদন জানান যাতে এই কলেজে কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়।

আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে এনএমসি হঠাৎ করেই ঘোষণা করে, কলেজটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শয্যা সংখ্যা এবং ল্যাবরেটরি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, অনেক নামী সরকারি কলেজের তুলনায় এখানে অনেক উন্নত মানের গবেষণাগার এবং শিক্ষার পরিবেশ ছিল।

ভারতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হলে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং কেন্দ্রীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতেই কলেজ বরাদ্দ করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা মেধার ভিত্তিতেই এই কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন এবং এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মেধাই ছিল প্রধান মাপকাঠি।

কিন্তু হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মেধাকে ধর্মের নিক্তিতে বিচার করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবি তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর এনএমসি যখন অনুমোদন দিয়েছিল, তখন সব অবকাঠামো ঠিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ অবকাঠামোগত ঘাটতির অজুহাত তোলা অত্যন্ত রহস্যজনক।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এনএমসির সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং এই ৫০ জন শিক্ষার্থীকে অঞ্চলের অন্য মেডিকেল কলেজগুলোতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণত মানুষ যেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য লড়াই করে, সেখানে একদল মানুষ কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে একটি কলেজ বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করছে।

মানবাধিকার কর্মী এবং ছাত্র সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো এলো দেশে

ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে চাকরি গেল ভারতের ৮০ কর্মীর!

এসএসসি পেরিয়েই ঝরে পড়ল দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

নির্বাচন কমিশন গঠন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

স্থানীয় ভোট নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক দুপুরে

১০

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১১

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

১২

গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

১৩

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১৪

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

পুলিশ ও গণমাধ্যম পরস্পরের বন্ধু: ডিএমপি কমিশনার

১৬

সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান

১৭

সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব

১৮

সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি হুথিদের

১৯

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

২০