
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে এক যুবককে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার কার্যালয়ে আটকে রাখে। পরে ঐ যুবকের বাড়ি থেকেই মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের জোয়ারদার পাড়া নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের নাম রতন (৩৩)। তিনি মালিহাদ ইউনিয়নের জোয়ারদার পাড়ার মৃত বুড়োর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে রতনকে আটক করে মালিহাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য টিলুর লোকজন। পরে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির ওই নেতার কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ঘটনা ঘটার প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর স্থানীয়রা কার্যালয়ের ভেতর ফ্যানের সাথে রতনের নিজের পরনের লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থা দেখতে পান। পরে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে রতনের মৃত্যু হয়। বিএনপি নেতার কার্যালয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ সন্ধ্যা ৭টার দিকে রতনের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে রতনের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন