যুক্তরাষ্ট্রকে রুখে দেওয়ার এখনই সময় - সমকন্ঠ
সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রকে রুখে দেওয়ার এখনই সময়

আল জাজিরার মতামত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডোনাল্ড আর্ল কলিন্স।

তার মতে, গত এক বছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে লোক দেখানো আলোচনা, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং মেক্সিকো, গ্রিনল্যান্ড ও ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে নাইজেরিয়ায় বোমা হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় অনুপ্রবেশ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মতো ঘটনাগুলো আমেরিকার আগ্রাসি রূপকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ৪৩ বছর বয়সি কিথ পোর্টার জুনিয়র এবং মিনেসোটার রেনে নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি রয়েছেন।

বিশেষ করে ক্যামেরায় ধারণকৃত এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অন্য কোনো দেশ যদি এভাবে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালাত, তবে পশ্চিমা বিশ্ব নিশ্চিতভাবেই তাদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত।

এই প্রেক্ষাপটে লেখক ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের দেখানো অহিংস আন্দোলনের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ১৯৫০-এর দশকে মন্টগোমারি বাস বর্জনের উদাহরণ টেনে বলেন, মার্কিন আগ্রাসন রুখতে বিশ্বজুড়ে একটি সম্মিলিত বয়কট ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। ২০২৬ সালের আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ বর্জন, আমাজন, গুগল বা পালান্টিরের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়া এবং আমেরিকার গণমাধ্যম একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার একমাত্র শান্তিপূর্ণ উপায়।

অধ্যাপক কলিন্স সতর্ক করে বলেন যে কেবল উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়, বরং মার্কিন করপোরেশন ও তাদের পণ্যের ওপর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক বা কোচেলা ও মেট গালার মতো বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ইভেন্টগুলো বর্জন করার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে হবে যে আমেরিকার এই সামরিকবাদ ও বর্ণবাদী নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ।

মার্টিন লুথার কিংয়ের আদর্শকে স্মরণ করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার আমূল পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: আল জাজিরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তথ্যে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: এনসিপি

বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করলো ভারত, দুই মাসে আসলো ৫০০ টন

গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র, দুই নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

হরমুজে অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

মৃত বন্ধুকে নিয়ে উপহাস করায় ক্ষেপেছেন রোনালদো

‘গাজায় এখনো গণহত্যা চলছে’

কুষ্টিয়ায় বড় ভাইয়ের হাসুয়ার আঘাতে ছোট ভাই নিহত

ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে নির্লিপ্ত প্রশাসন, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২৯, উদ্ধার অস্ত্র-মাদক

১০

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিল: গ্রেপ্তার ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড

১১

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ‘পাহারাদারের’ কোনো প্রয়োজন নেই: ইরানের প্রেসিডেন্ট

১২

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় পিলারের ধাক্কায় নৌকা দুর্ঘটনা, ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

১৩

শত শত ইয়েমেনি শরণার্থীদের উদ্ধার করেছে জিবুতি

১৪

অভিভাবক-দর্শকদের অশোভন আচরণ নিয়ন্ত্রণে চালু হচ্ছে ‘কালো কার্ড’

১৫

ইয়েমেনের হুথিরা ছদ্মবেশী যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী

১৬

ইরানের সঙ্গে বর্ডার বন্ধ করছে ইরাক

১৭

ইসরায়েল অধিকৃত সিরিয়ায় নেতানিয়াহু, প্রতিবাদ সৌদি আরবের

১৮

এআই ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরি করেছে হুথিরা

১৯

চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল

২০