অ্যান্টার্কটিকায় উল্টো বইছে স্রোত, বাড়ছে লবণাক্ততা - সমকন্ঠ
মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অ্যান্টার্কটিকায় উল্টো বইছে স্রোত, বাড়ছে লবণাক্ততা

মহাবিপর্যয়ের হুমকিতে বিশ্ব জলবায়ু

অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা রহস্যময় সমুদ্র তার চিরচেনা চরিত্র বদলে ফেলছে। প্রকৃতির প্রাচীন নিয়ম ভেঙে সমুদ্রের গভীরে থাকা উষ্ণ পানি আচমকা উপরে উঠে আসছে, আর উপরিভাগের শীতল পানি চলে যাচ্ছে নিচে। সমুদ্র স্রোতের এই আকস্মিক উল্টো রথ এবং পানির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা দেখে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু মেরু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র পৃথিবীর জলবায়ু ও বাস্তুতন্ত্রকে বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফিক সেন্টারের (এনওসি) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকা সংলগ্ন সমুদ্রে লবণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্রের গভীর স্তরের সঞ্চালন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উল্টে না গেলে এমনটা হওয়া অসম্ভব। এর ফলে সমুদ্রের গভীরে শত শত বছর ধরে জমা থাকা তাপ এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এখন উপরে উঠে আসছে

সাধারণত অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলে যে মিষ্টি পানি তৈরি হয়, তা সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে। এই শীতল পানি নতুন করে বরফ জমার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু বর্তমানে নিচ থেকে উঠে আসা লবণাক্ত ও উষ্ণ পানি এই চক্রকে বাধা দিচ্ছে। উষ্ণ জল এখন নিচ থেকেই বরফকে গলিয়ে দিচ্ছে, ফলে নতুন করে বরফ জমার আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকায় যে পরিমাণ বরফ গলেছে, তা আয়তনে আস্ত গ্রিনল্যান্ডের সমান।

বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন

» সমুদ্রের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব উষ্ণায়নকে আরও বাড়াবে।
» এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অতিবৃষ্টি, শক্তিশালী ঝড় এবং চরম তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বেড়ে যাবে।
» দ্রুত বরফ গলার ফলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে গিয়ে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
» সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক আচরণে পেঙ্গুইনসহ অ্যান্টার্কটিকার অনন্য জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়বে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের পানিতে কোনো কাঁটাতার নেই; তাই অ্যান্টার্কটিকার এই ক্ষত দ্রুতই সারা বিশ্বের সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। এই ধারা বজায় থাকলে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থায়ী পরিবর্তন চলে আসতে পারে, যা মানবসভ্যতার জন্য এক অশনি সংকেত।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তথ্যে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: এনসিপি

বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করলো ভারত, দুই মাসে আসলো ৫০০ টন

গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র, দুই নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

হরমুজে অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

মৃত বন্ধুকে নিয়ে উপহাস করায় ক্ষেপেছেন রোনালদো

‘গাজায় এখনো গণহত্যা চলছে’

কুষ্টিয়ায় বড় ভাইয়ের হাসুয়ার আঘাতে ছোট ভাই নিহত

ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে নির্লিপ্ত প্রশাসন, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২৯, উদ্ধার অস্ত্র-মাদক

১০

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিল: গ্রেপ্তার ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড

১১

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ‘পাহারাদারের’ কোনো প্রয়োজন নেই: ইরানের প্রেসিডেন্ট

১২

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় পিলারের ধাক্কায় নৌকা দুর্ঘটনা, ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

১৩

শত শত ইয়েমেনি শরণার্থীদের উদ্ধার করেছে জিবুতি

১৪

অভিভাবক-দর্শকদের অশোভন আচরণ নিয়ন্ত্রণে চালু হচ্ছে ‘কালো কার্ড’

১৫

ইয়েমেনের হুথিরা ছদ্মবেশী যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী

১৬

ইরানের সঙ্গে বর্ডার বন্ধ করছে ইরাক

১৭

ইসরায়েল অধিকৃত সিরিয়ায় নেতানিয়াহু, প্রতিবাদ সৌদি আরবের

১৮

এআই ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরি করেছে হুথিরা

১৯

চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল

২০