২০২৬ হতে পারে প্রবালপ্রাচীরের শেষ বছর, সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা - সমকন্ঠ
রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

২০২৬ হতে পারে প্রবালপ্রাচীরের শেষ বছর, সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানি ক্রমেই উষ্ণ হয়ে উঠছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রবালপ্রাচীরের ওপর। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালেই বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর ব্যাপকভাবে বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই গত এক দশকে বিশ্বের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কোরাল রিফ ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবী এখন প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই সীমা অতিক্রম করলে প্রবালপ্রাচীর আর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না।
প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরির সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ সামান্থা গারার্ড জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রবালপ্রাচীরের ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তার মতে, প্রবালের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির চক্র এল নিনোর ওপর।

সম্প্রতি একটি শক্তিশালী এল নিনো পর্যায়ের কারণে বিশ্বের প্রায় ৮৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে ব্লিচিংয়ের শিকার হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে আরেকটি এল নিনো চক্র শুরু হলে প্রবালপ্রাচীর সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারবে না।

প্রবাল যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ পানির মধ্যে থাকে, তখন তার ভেতরে বসবাসকারী রঙিন শৈবালগুলো বের হয়ে যায়। এতে প্রবাল সাদা হয়ে পড়ে—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ব্লিচিং। দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা বেশি থাকলে প্রবাল শেষ পর্যন্ত মারা যায়।

যদিও সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় প্রবালপ্রাচীর বিস্তৃত, তবু সাগরের প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল।

আগে উষ্ণ এল নিনো বছরের পর সাধারণত শীতল পানির লা নিনা পর্যায় আসত, যা প্রবালপ্রাচীরকে পুনরুদ্ধারের সময় দিত। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এখন এল নিনো আরও শক্তিশালী ও ঘন ঘন হচ্ছে। ফলে পানি শীতল হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের এক্সিটার ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের পরিচালক টিম লেন্টনের মতে, “আমরা যেভাবে প্রবালপ্রাচীরকে চিনি, সেই রূপে এগুলোর টিকে থাকা আর সম্ভব নয়।”

গত বছর প্রকাশিত ১৬০ জন বিজ্ঞানীর তৈরি গ্লোবাল টিপিং পয়েন্টস রিপোর্টেও বলা হয়েছে, প্রবালপ্রাচীর ইতোমধ্যেই তাদের সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রাক্‌-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই ব্যাপক ব্লিচিং শুরু হয়। বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই প্রায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

সামান্থা গারার্ডের আশঙ্কা, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর একসঙ্গে বড় ধরনের ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। মিসরের কাছে আকাবা উপসাগর এবং মাদাগাস্কারের প্রবালপ্রাচীর তুলনামূলকভাবে বেশি তাপ সহনশীল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীরগুলো শীতল পানির স্তরের কারণে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করতে হলে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো ছাড়া বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

ভাইস অবলম্বনে

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো এলো দেশে

ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে চাকরি গেল ভারতের ৮০ কর্মীর!

এসএসসি পেরিয়েই ঝরে পড়ল দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

১০

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

১১

নির্বাচন কমিশন গঠন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

১২

স্থানীয় ভোট নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক দুপুরে

১৩

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

১৫

গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

১৬

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১৭

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

১৮

পুলিশ ও গণমাধ্যম পরস্পরের বন্ধু: ডিএমপি কমিশনার

১৯

সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান

২০