ইরানে সাধারণ বিক্ষোভ যেভাবে রূপ নিয়েছে গণঅভ্যুত্থানের - সমকন্ঠ
রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরানে সাধারণ বিক্ষোভ যেভাবে রূপ নিয়েছে গণঅভ্যুত্থানের

ইরানের তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতি এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

প্রথমে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিক্ষোভের শুরুটা হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের প্রধান প্রধান বাজারগুলো থেকে। দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ ২০ হাজারে নেমে গেলে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন। পরদিনই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বড় শহরগুলোতে। এর জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

৩০ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং ৩১ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে শুরু করে।

নতুন বছরের শুরুতেই ১ জানুয়ারি আন্দোলনে প্রথম প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। লরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার তথ্য জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২ জানুয়ারি যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক সতর্কবার্তায় জানান, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। এরপর থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে প্রায় সব কটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

৩ জানুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ‘দাঙ্গাবাসী’ হিসেবে অভিহিত করেন। খামেনির এই বক্তব্যের পর নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থান নেয়।

৮ জানুয়ারি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ এবং ইরান হিউম্যান রাইটস-এর তথ্যমতে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

১০ জানুয়ারি নাগাদ নিহতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানানো হলেও, ১১ ও ১২ জানুয়ারির মধ্যে এই সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছেন অধিকারকর্মীরা। কোনো কোনো সূত্রমতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে।

বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ বিভিন্ন শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে আছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিলেও দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এক চরম সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সূত্র: গালফ্ নিউজ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো এলো দেশে

ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে চাকরি গেল ভারতের ৮০ কর্মীর!

এসএসসি পেরিয়েই ঝরে পড়ল দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

১০

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

১১

নির্বাচন কমিশন গঠন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

১২

স্থানীয় ভোট নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক দুপুরে

১৩

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

১৫

গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

১৬

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১৭

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

১৮

পুলিশ ও গণমাধ্যম পরস্পরের বন্ধু: ডিএমপি কমিশনার

১৯

সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান

২০