অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের ৫ লাখ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলো মেটা - সমকন্ঠ
সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের ৫ লাখ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলো মেটা

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার নতুন আইন কার্যকরের প্রথম সপ্তাহেই মেটা তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে প্রবর্তিত এই বিতর্কিত আইনের আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয় কিশোর-কিশোরীদের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মেটা এক ব্লগ আপডেটে জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি, ফেসবুকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি এবং থ্রেডসে ৩৯ হাজার ৯১৬টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে। সরকারের দাবি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং অ্যালগরিদমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এই কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য।

বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর এই আইনটি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ চলছে। ফ্লোরিডা থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত অনেক দেশই শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার কথা ভাবছে, তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের বয়সসীমা এবং বাবা-মায়ের অনুমোদনের কোনো সুযোগ না রেখে আইন করা এখনো বিরল।

মেটা অবশ্য এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে গঠনমূলক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ঢালাওভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করে বয়স যাচাইয়ের বিষয়টি সরাসরি ‘অ্যাপ স্টোর’ পর্যায়ে করা উচিত এবং বাবা-মায়ের সম্মতির ভিত্তিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে এই নীতি বিপুল জনপ্রিয়তা পেলেও কারিগরি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নানা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ শিশুরা সহজেই ভিপিএন বা অন্য কোনো উপায়ে এই নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইন্টারনেটের অনিরাপদ কোনো কোনায় জড়ো হতে পারে।

এ ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ+ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের অনলাইন কানেক্টিভিটি বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যা তাদের সামাজিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বর্তমানে মেটা ও অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই নতুন মানদণ্ডের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ডিজিটাল আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি যুক্তরাজ্যের টরি দলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০২৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হলে তারাও অস্ট্রেলিয়ার এই পথ অনুসরণ করবে।

প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার এই দ্বন্দ্বে আগামী দিনগুলোতে শিশুদের অনলাইন অভিজ্ঞতা কতটা পরিবর্তন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো এলো দেশে

ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে চাকরি গেল ভারতের ৮০ কর্মীর!

এসএসসি পেরিয়েই ঝরে পড়ল দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

১০

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

১১

নির্বাচন কমিশন গঠন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

১২

স্থানীয় ভোট নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক দুপুরে

১৩

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

১৫

গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

১৬

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১৭

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

১৮

পুলিশ ও গণমাধ্যম পরস্পরের বন্ধু: ডিএমপি কমিশনার

১৯

সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান

২০