গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় করুণ মৃত্যু রোগীদের - সমকন্ঠ
সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় করুণ মৃত্যু রোগীদের

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ও আগ্রাসনের মুখে চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্যানসার রোগীদের জন্য গাজার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার রোগী কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েল একদিকে গাজা থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে গাজায় এখন ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই অবধারিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

গাজা ক্যানসার সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবু নাদা এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, তারা ক্যানসার চিকিৎসার সব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা হারিয়েছেন। বর্তমানে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হলেও সেখানে রোগ নির্ণয়ের কোনো যন্ত্র বা কেমোথেরাপির ওষুধ নেই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির দোহাই দিয়ে গাজায় চকোলেট, চিপস বা বাদামের মতো বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের কোনো ওষুধ ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আবু নাদার মতে, এটি স্রেফ একটি প্রচারণামূলক কৌশল, কারণ ক্যানসার চিকিৎসার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রোটোকল বা প্রয়োজনীয় ওষুধ এখন গাজায় একেবারেই অনুপস্থিত।

মানবিক এই বিপর্যয়ের শিকার হানি নাঈম নামের এক রোগী জানান, তিনি গত ছয় বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং আগে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে গিয়ে চিকিৎসা নিতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি গাজায় আটকা পড়েছেন এবং কোনো রেডিওথেরাপি পাচ্ছেন না। মোহাম্মদ আবু নাদা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র খান ইউনিস এলাকাতেই প্রতিদিন দুই থেকে তিন জন ক্যানসার রোগী মারা যাচ্ছেন।

ব্যথানাশক ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের যন্ত্রণা উপশম করাও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৩ হাজার ২৫০ জন রোগীর বিদেশে চিকিৎসার জন্য দাপ্তরিক ছাড়পত্র থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা ছাড়তে পারছেন না।

চিকিৎসকরা বলছেন, গাজায় ক্যানসার চিকিৎসা এখন প্রায় ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। ক্যানসার সারা শরীরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লেও তা প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গাজা ছেড়ে চলে গেছেন এবং যাঁরা এখনও আছেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তারা কেবল রোগীদের পাশে বসে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বারবার চিকিৎসার সরঞ্জাম বা বিদেশে যাওয়ার অনুমতির আবেদন জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। গাজার এই নিঃশব্দ ঘাতক ব্যাধি এবং চিকিৎসার কৃত্রিম সংকট হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাবি শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় ৪ রেলকর্মী সাময়িক বরখাস্ত

রাজশাহী স্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধরে সম্পৃক্ততা নেই আনসারের

সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

এবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প

১০

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো এলো দেশে

১১

ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা

১২

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে চাকরি গেল ভারতের ৮০ কর্মীর!

১৩

এসএসসি পেরিয়েই ঝরে পড়ল দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

১৪

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

১৫

নির্বাচন কমিশন গঠন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

১৬

স্থানীয় ভোট নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক দুপুরে

১৭

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৮

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

১৯

গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

২০