হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ডনের সম্পাদকীয়তে যা বলা হয়েছে - সমকন্ঠ
বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬
সমকন্ঠ
১৮ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৩৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ডনের সম্পাদকীয়তে যা বলা হয়েছে

বিরোধীদের দমনে বানানো আদালতে নিজেই দণ্ডিত হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্যই করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ একসময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। গত বছর গণবিক্ষোভের সময় তার সরকারের কর্তৃত্বমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের বাইরে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি রায়ের বিষয়ে বলেছেন, এটি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘প্রস্তুতিপ্রসূত ট্রাইব্যুনালের’ সিদ্ধান্ত। কঠোর রায় দেয়া ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার শাসনামলে এই আদালত তার বেশ কিছু প্রতিপক্ষকে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও বিএনপি’র নেতা ও কর্মীদের, ১৯৭১ সালের সহিংসতায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তখন অনেকেই এই বিচার প্রক্রিয়াকে অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করেছিলেন। এখন শেখ হাসিনা নিজেই সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিকার হয়ে গেছেন।

এতে আরও বলা হয়, যদিও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু এ বিষয়ে বিতর্ক কম যে, শেখ হাসিনার শাসন ক্রমবর্ধমানভাবে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠেছিল। তার আশেপাশের নিকটজনদের সমৃদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষদের করা হয়েছে হেনস্থা। গণতান্ত্রিক নীতিমালা উপেক্ষিত হয়ে, শেখ হাসিনা, তার পিতা শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগের চারপাশে একটি ব্যক্তিগত রাজনীতি গড়ে তোলেন।

শেখ হাসিনার কঠোর শাসন গত বছরের গণরোষে বিস্ফোরিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত তার সরকারের পতন এবং ভারতের স্বেচ্ছানির্বাসে পাথেয় হয়। স্পষ্ট যে, ২০২৪ সালের অস্থিরতায় তার সরকার প্রতিবাদকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে; নিজে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমরা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি।’ এ বছরের শুরুতে তার দলও নিষিদ্ধ হয়, আর তার প্রয়াত পিতা, যিনি একসময় ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে সম্মানিত ছিলেন, আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন।

ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ হয়ে যাওয়ার পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের পরও, দেশটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। শেখ হাসিনার শাসনের সময় যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে, তা প্রতিবাদ দমন এবং বিরোধী দলের ওপর অব্যাহত আক্রমণে প্রতিহত হয়েছে। আজ বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি। আগামী বছর নির্বাচন হবে, এবং অস্থায়ী কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃস্থাপন করতে হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশের সীমান্তের পাশে রাখাইনে জান্তার বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত, জাতিসংঘের উদ্বেগ

১

আজ ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি

২

নৌপথের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

৩

রাজধানীতে পাঁচ বছরে আড়াই হাজার বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন

৪

৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, জিএম বরখাস্ত

৫

কুষ্টিয়ায় রিভলভার ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

৬

প্রবাসীদের জন্য তাকওয়া ভিলেজে ২০ শতাংশ ছাড় শুরু

৭

দুই দশক পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিল মার্কিন সেনারা

৮

উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

৯

রাজধানীতে আট মাসে ৪০০ বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন

১০

আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে আলোচনায় ‘ইরান’

১১

মার্কিন ও ইসরায়েলি ‘যুদ্ধাপরাধের’ বিচার নিশ্চিত করবে ইরান

১২

রাশিয়ায় আতশবাজির কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ১৪

১৩

রাশিয়ায় ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দাবি জেলেনস্কির

১৪

অক্টোবরে আসছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি: রোসাটম

১৫

চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই: নজরুল ইসলাম খান

১৬

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

১৭

হরমুজ থেকে আরব সাগরে পিছু হটেছে শত্রুরা, সেখান থেকেও তাড়াব: মোজতাবা খামেনি

১৮

সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় সাহস কারও নেই— ডা. শফিকুর রহমান

১৯

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

২০