খাগড়াছড়ি সংঘর্ষ
খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ভারতের ইন্ধন বা ফ্যাসিস্ট চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তার মতে, এই বক্তব্য ২০১২ সালের রামু ঘটনার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কালক্রম: রামুসহ সারা দেশে বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের ১৩ বছর এবং গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ২০১২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যত সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, একটিরও বিচার হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও মন্দির ও মাজারে হামলা, বৈষম্যমূলক কার্যক্রম ও জনতুষ্টিবাদী তৎপরতা অব্যাহত আছে। খাগড়াছড়ির ঘটনাও এর সাম্প্রতিক উদাহরণ। তিনি মন্তব্য করেন, “তদন্ত ছাড়াই ভারতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা আসলে ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। তখন যেমন রামুর ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করা হয়েছিল, পরে দেখা যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই জড়িত। এখনো সেই একই ছাঁচ চলছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ বিচ্ছিন্নতা নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার চায়। তাই সরকারের উচিত পাহাড়ে কারা জমি দখল করে আছে, তার তালিকা প্রকাশ করা। গত কয়েক দশকে কারা ইজারা নিয়েছে এবং উন্নয়ন বরাদ্দ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অনলাইনে ঘৃণাচর্চা ও মব সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টেনে আনু মুহাম্মদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়ে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নারীবিদ্বেষী আক্রমণ চলছে। এসব স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং সংগঠিত চক্রের পরিকল্পনার ফল।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নদী দখল, পাথর উত্তোলন বা সাম্প্রদায়িক হামলায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর ঐক্য দেখা গেলেও এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে ওঠে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও বৈষম্যবাদী মতাদর্শের দাপট রয়ে গেছে। তাঁর মতে, “অত্যাচারী শাসকের পতন হলেও সম্প্রীতি ও সমতার সমাজ গড়তে শক্তির সমাবেশ প্রস্তুত ছিল না। পরিবর্তনের একমাত্র শর্ত হলো সেই শক্তির সমাবেশ।
সভায় আরও বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অর্থনীতিবিদ সুজিত চৌধুরী, সিপিবি নেতা আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা জয়দীপ ভট্টাচার্য, লেখক তাহমিদাল জামী, শিল্পী ও গবেষক অরূপ রাহী ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ফেরদৌস আরা রুমি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু।
মন্তব্য করুন